শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করবে বিসিআই

0
63

bsciআগামি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট দেশীয় শিল্প সহায়ক হোক তেমনটিই চায় বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। আর তাই আসন্ন বাজেটে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করছে ব্যবসায়ীদের এ সংগঠনটি।

সেই সাথে আগামি ২৭ এপ্রিল রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রাক-বাজেট সভায় দেশে উৎপাদিত পণ্যের ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) কমানোর সুপারিশ করবে সংগঠনটি।

সংগঠনটি তাদের প্রস্তাবে উল্লেখ করেছে,  বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল  আমদানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রদান করতে হয়। তবে দেশীয় কাঁচামাল থেকে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব নয়। তাই কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করে তা ১০ শাতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব  করা হয়। বলা হয়, দেশে মেলামাইন শিল্পের ৭০টির বেশি কারখানা রয়েছে। যেখানে  বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণে কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। তবে গত অর্থবছরে শুল্ক ২৫ শতাংশ করার কারণে মেলামাইন শিল্পসহ গোটা প্লাস্টিক সেক্টরে সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

প্রস্তাবে বলা হয়, খেলনার খুচরা যন্ত্রাংশ স্পিং, ফ্রিকশন, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, মিউজিক, আইটেম, বাতি আমদানির ক্ষেত্রে তা ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়। এই প্রস্তাবের পক্ষে বলা হয়, দেশে বহু  ক্ষুদ্র যংন্ত্রাশ ব্যবহারকারী কারখানা গড়ে ওঠেছে। তাতে বিশ্বে প্লাস্টিক খেলনার বাজার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমদানি পণ্যের ওপর আরোপ করা কর কমালে তা দেশীয় শিল্পের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি বাড়ানো যাবে বলে মনে করে সংগঠনটি।

খাদ্য সংরক্ষণের জন্য প্লাস্টিক র‌্যাপিংয়ের আদমানি শুল্ক ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই খাতে বিদ্যমান ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তা করা হয়। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চিপস্, বিস্কুট, চানাচুর, ওরস্যালাইন-সহ বিভিন্ন পণ্যের মোড়কের ওপর লেমিনেশনের জন্য পলিস্টাইরিন, ফিল্ম, পেট ফিল্ম ও বিওপিপি ফিল্ম ব্যবহার করা হয়। যা পণ্যের  গুণগতমান সংরক্ষণসহ আদ্রতা প্রতিরোধ করে। তাই শিল্পের স্বার্থে এই ধরণের পণ্য তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়।

পিভিসি পাইপ ও পিভিসি ক্যাবল তৈরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ১০ থেকে ৫ শতাংশ নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়। বলা হয়, এই কাঁচামালের ওপর থেকে শুল্কহার কমালে দেশীয় শিল্প প্রতিরক্ষণের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়বে বলে মনে করে বিসিআই।

বাণিজ্যিক ও শিল্প আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক হারের ভিন্নতার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্তিত্ব সংরক্ষণ, নতুন শিল্প স্থাপন তথা অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হয়।

রেফ্রিজারেটর এর কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে এনে তা ১০ শতাংশ করার জন্য বলা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়, এটি করা হলে দেশে শিল্পায়ন আরও তরান্বিত হবে। আর্থিক কর্মসংস্থানের পথ সুগম হবে, বাড়বে তাতে সরকারি রাজস্ব।

আমদানি ব্যতীত অন্যান্য তরল দ্রব্য ফিল্টার করার মেশিন শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য মেশিনারি রেয়াত সুবিধা নেই। নতুন কোড করে যাতে এই সুবিধা প্রদান করা হয় তার দাবি জানানো হয়।

গ্যাস জেনারেটরের ওপর থেকে সম্পূর্ণ শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়। বলা হয়, প্লাস্টিক খাতে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে  প্রাশয়ই কাঁচামাল নষ্ট হয়ে থাকে। যা অন্য শিল্পের ক্ষেত্রে ঘটে না।

৮০০ থেকে ১৫০০ সিসি সম্পন্ন কার আমদানিতে ১২ শতাংশে নামিয়ে আনা ও সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি করা হয়। বিভিন্ন পেশার মানুষকে গাড়ি ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনতে শুল্ক কমানো দরকার বলে মনে করে সংগঠনটি।

দেশে উৎপাদিত ছোটদের প্লাস্টিকের সামগ্রী থেকে মূসক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন এই উৎপাদিত পণ্যটির ওপর ১৫ শতাংশ কর বলবত রয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্ষুদ্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে মূসক প্রত্যাহেরর কোনো বিকল্প নেই । আর এমনটি করা হলে প্লাস্টিক পণ্যের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে বলও বলা হয়।

প্লাস্টিক পণ্যকে সরাসরি রপ্তানির বিপরীতে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তার প্রস্তাব করা হয়। বলা হয় সরাসরি উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানির বিপরীতে অন্যান্য খাত এই সুবিধা পাচ্ছে। এতে প্লাস্টিক খাত এই সুবিধা পেলে রপ্তানি আরও বাড়ানো যাবে বলে ম নে করা হয়।

এছাড়া রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর মূসক প্রত্যাহারসহ পণ্য খালাস সংক্রান্ত নীতিমালা, পাওয়ার সেক্টর, ব্যাংকের বিভিন্ন চার্জ, পরিবেশ লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়ন সমস্যা, প্যাকেজিং সমস্যা, দক্ষ জনশক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।