‘মজুরি ও শ্রম আইন মানছেন না কাফকো’

0
39

কাফকো সার কারখানাকর্ণফুলী সার কারখানায় (কাফকো) কর্মরত অস্থায়ী নিরাপত্তাকর্মীদের ন্যায্য মজুরি ও শ্রম আইন অনুযায়ী সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে কর্মচারিরা। সেই সাথে অবিলম্বে আইন অনুযায়ী তাদের সকল সুযোগসুবিধা প্রদানেরও দাবি জানিয়েছে তারা।

শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদেশি এ  কারখানাটির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন কারখানাটির নিরপত্তাকর্মীরা।

কাফকো নিরাপত্তাকর্মী কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ব্যনারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় বিদেশি এ  কারখানাটিতে ছয় মাস ধরে শ্রমকিরা কোনো বেতন পাচ্ছে না। সেই সঙ্গে শ্রম আইন মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তুলেছেন তারা।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির নেতা হোসেনুজ্জামান চৌধুরী বলেন, কাফকোর সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে আমরা  ১৫২ জন কর্মচারী নিয়োজিত আছি। এসকল  নিরাপত্তা কর্মীরা সর্বোচ্চ ২২ বছর থেকে ২ বছর ধরে চাকুরি করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস দিয়েও এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান কারও চাকরি স্থায়ী করেনি। ফলে আমরা দীর্ঘদিন চাকুরি করা সত্ত্বেও বোনাস, সাপ্তাহিক ছুটি, শ্রম আইন অনুযায়ী অন্যান্য ছুটি, ওভারটাইমসহ সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছি।

তিনি শ্রম আইনের ৩(ক) ধারা উল্লেখ করে বলেন, এ ধারায় সুপষ্টভাবে বলা আছে-ঠিকাদার সংস্থা দ্বারা সরবরাহকৃত শ্রমিকগণ শ্রম আইনের অন্তর্ভুক্ত হইবেন। অর্থাৎ শ্রম আইন অনুযায়ী সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করিবেন। কিন্তু কাফকো কর্তৃপক্ষ শ্রম আইনের তোয়াক্কা না করে নিতান্ত অমানবিকভাবে নিরাপত্তা কর্মচারীদের সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছেন।

তিনি বলেন, কারখানাটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে কর্মীদের কন্ট্রাকটরের মাধ্যমে বেতন দেওয়া হতো। পরবর্তী পর্যায়ে বেতন-ভাতা, অন্যান্য সুযোগ সুবিধা, বোনাস, চাকুরি স্থায়ীকরণ ইত্যাদি নিয়ে ঠিকাদারের সাথে শ্রমিক ও কাফকো কর্তৃপক্ষের বিরোধ হলে কাফকো কর্তৃপক্ষের পরামর্শে নিরাপত্তাকর্মী কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড কাফকো নামে সংগঠনটি গঠন করা হয়। এই সমিতির মাধ্যমে কাফকো কর্তৃপক্ষের ২ বছর পরপর চুক্তির মাধ্যমে নিরাপত্তাকর্মীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয়।

কিন্ত গেল ছয় মাস ধরে আমরা দাবি উত্থাপনের সময় আমাদের চাকুরি স্থায়ীকরণের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বার বার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও আমাদের এই অত্যন্ত ন্যায় সংগত মানবিক দাবিটি গ্রহণ করেননি।

তিনি বলেন, গত অক্টোবরে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত ৩০ জানুয়ারি চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির জন্য নতুন দাবি উত্থাপন করি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বিগত ৬মাস ধরে কর্তৃপক্ষ চুক্তি নবায়ন না করায় নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ফলে ৬ মাস ধরে বেতন-ভাতা তুলতে না পারায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে নিরাপত্তাকর্মীরা।

প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত অবস্থায় আহত শ্রমিকদের প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ধরনের সহায়তা  করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সময়ে আমাদের একজন শ্রমিক আজিজুর রহমান নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত অবস্থায় মহিষের গুঁতায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান, দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় অসুস্থ হয়ে অনাহারে, অর্ধাহারে, বিনা চিকিৎসায় আমাদের সহকর্মী আজম খান, সহকর্মী আবুল কাশেমের স্ত্রী, সহকর্মী ইউসুফের পিতা মৃত্যুবরণ করেন বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও কাফকো কর্তৃপক্ষের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নিরাপত্তাকর্মীদের ১৩ হাজার টাকা মাসিক বেতন নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। কিন্তু কতৃপক্ষ সে সুপারিশও বাস্তবায়ন করেনি।

এই অবস্থায় অবিলম্বে নিরাপত্তাকর্মীদের যোগদানের সময় থেকে স্থায়ী নিয়োগ, সুপারিশকৃত বেতন ধার্য করে দ্রুত বেতন পরিশোধ এবং শ্রম আইন অনুযায়ী সাপ্তাহিক ছুটিসহ বেতন অন্যান্য সকল ছুটি, বোনাস প্রদানের দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনদিনের কর্মসুচি ঘোষণা করা হয়। ১৩ এপ্রিল ১১টায় কালো ব্যাজ ধারণ ও জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান। ১৫ এপ্রিল কাফকো হাউজিং গেইটে মানববন্ধন, ১৬ ও ১৭ এপ্রিল সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত  সপরিবার অবস্থান ধর্মঘট।