‘ভারতের প্রকল্পে বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে’

0
53

tistaভারতের পরিবেশ ও প্রকৃতি বিধ্বংসী আগ্রাসনমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো দক্ষিণ এশিয়ার প্রকৃতি ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে বলে অভিযোগ তুলেছেন ‘সেইভ নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ড লাইফ’ এর সভাপতি মিথুন চৌধুরী।

শনিবার সাড়ে ১২টা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সেইভ নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ড লাইফ’ আয়োজিত ‘তিস্তা পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে’ এক মানববন্ধনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মানববন্ধনে মিথুন বলেন, ভারতের এক তরফা সিদ্ধান্তের কারণে ফারাক্কা, গজলডোবা, টিপাইমুখ, ফেনী বাঁধের মাধ্যমে বাংলাদেশের পদ্মা, তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমা ও ফেনীসহ বিভিন্ন নদীর অববাহিকার প্রকৃতি ও পরিবেশ আজ ধ্বংসের মুখে।

উজানে অবস্থানের সুযোগ নিয়ে ভারত এসব নদ-নদীর পানি অপসারণ করে নিচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ভারতের কারণে বাংলাদেশের নদীগুলোর পানি শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভূ-প্রকৃতি ও অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে।

মিথুন চৌধুরী বলেন, যৌথ নদী কমিশনের হিসাবে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিস্তায় পানির প্রবাহ ছিল ৫ হাজার কিউসেক। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেই পানির পরিমাণ ৫ শ কিউসেকে নেমে এসেছে। অথচ এর আগের বছরও পানির প্রবাহ ছিল ২ হাজার ৫ শ থেকে ৩ হাজার কিউসেক পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে কমপক্ষে ৫ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহ থাকা দরকার।

বাংলাদেশের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। সেই সাথে প্রকৃতি তার বৈচিত্র্য হারাতে বসেছে।

তিনি বলেন, এর মধ্যে আবার সুন্দরবন বিধ্বংসী রামপাল কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের নামে সরকার আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এভাবে চলতে  থাকলে আমাদের ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যময় নদীমাতৃক প্রকৃতি নির্ভর সংস্কৃতি বিলীন হয়ে যাবে।

এ সময় তিনি তিস্তা পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে অন্যান্য বক্তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত বাধ নির্মাণ, ভাঙ্গন রোধে নদীর বুকে পাথর ফেলা, ব্লক ফেলা, টি বাঁধ নির্মাণসহ পরিবেশবিরোধী সব কাজ বন্ধ করার দাবি জানান।

সংগঠনের সভাপতি মিঠুন রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শেখ খায়রুল হক শাওন, আ. রহিম, মো. কামাল হোসেন প্রমুখ।

জেইউ/ এআর