হলমার্ক কেলেঙ্কারি : আরও ২৭ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এক সপ্তাহের মধ্যেই

0
77
হলমার্ক,সোনালী ব্যাংক ও দুদকের লোগো
হলমার্ক,সোনালী ব্যাংক ও দুদকের লোগো

sonali-acc-hallmark20130916044438_6373হলমার্ক গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সহযোগী পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ২৭ মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন এক সপ্তাহের মধ্যে কমিশনে জমা দিবে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্ত দল। অভিযোগপত্রে আসামি করা হচ্ছে হলমার্কের চেয়ারম্যান, পাঁচ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও সোনালী ব্যাংকের ১৭ কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে। দুদক সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংকের হোটেল রূপসী বাংলা শাখা থেকে ফান্ডেড ৩৭২ কোটি ৮২ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৫ কোটি আত্মসাতের অভিযোগে ২৭ টি মামলা দায়ের করে দুদক। গত বছরের ১ জানুয়ারি করা এসব মামলায় হলমার্ক চেয়ারম্যান, সহযোগী পাঁচ প্রতিষ্ঠান ও সোনালী কর্মকর্তাসহ মোট ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা ব্যাক টু ব্যাক (বিটিবি), পেমেন্ট এগেইনস্ট ডকুমেন্ট (পিএডি), প্রি শিপমেন্ট ক্রেডিট (পিএসসি), ইনল্যান্ড বিল পারসেস (আইবিপি) এবং ফরেন বিল পারসেস (এফবিপি) ইত্যাদি খাতে এসব টাকা আত্মসাৎ করে। আসামিদের মধ্যে ১৭ জনই হচ্ছে সোনালী ব্যাংকের এবং বাকিরা হলমার্কসহ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের। ওই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো- প্যারাগন নিট অ্যান্ড কম্পোজিট, টি অ্যান্ড ব্রাদার্স, খানজাহান আলী সোয়েটার, নকশী নিট কম্পোজিট এবং ডিএন স্পোর্টস। এসব মামলার এক বছরেরও বেশি সময় তদন্তের পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে যাচ্ছে তদন্ত টিম। আর এতে অভিযুক্তদের সকলেরই সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় সকলেই আসামি থাকছেন চার্জশিটে। আসামিদের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের ১৭ কর্মকর্তা হলেন, ব্যাংকটির রূপসী বাংলা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ও ডিজিএম এ কে এম আজিজুর রহমান, এজিএম মো. সাইফুল হাসান, এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল মতিন, ধানমন্ডি শাখার এসইও মেহেরুন্নেসা মেরী, জিএম ননী গোপাল নাথ, সাবেক জিএম সবিতা সিরাজ,  এজিএম আশরাফ আলী পাটোয়ারী, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. হুমায়ুন কবির, ডিএমডি মাইনুল হক, ডিএমডি মো. আতিকুর রহমান, জিএম আ ন ম মাসরুরুল হুদা সিরাজী, ডিজিএম শেখ আলতাফ হোসেন, মো. সফিজউদ্দিন আহমেদ, কানিজ ফাতিমা চৌধূরী, এজিএম কামরুল হোসেন খান, মো. খুরশীদ আলম  এবং মীর মহিদুর রহমান। হলমার্কসহ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের ১৮ আসামি হলেন- টিঅ্যান্ড ব্রাদার্সের চেয়ারম্যান জিনাত ফাতেমা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাওহীদ হোসেন, পরিচালক তাসলিম হাসান, প্যারাগন নিট কম্পোজিট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম রাজা, পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন, প্যারাগন নিটের সহযোগী ভুয়া প্রতিষ্ঠান মন্ডল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. মকুল হোসেন, শনাক্তকারী হিসেবে হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর মাহমুদ, নকশী নিট কম্পোজিট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোছা: আমেনা বেগম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মালেক, নকশীর ভুয়া সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম পেপার্স অ্যান্ড এক্সেসরিজের স্বত্বাধিকারী মো. জমির হোসেন,  শনাক্তকারী হিসেবে হলমার্ক গ্রুপের জিএম তুষার আহমেদ, ডিএন স্পোর্টসের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলামের নিকট আত্মীয় মোতাহার উদ্দিন চৌধুরী, ডিএন স্পোর্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুর রহমান জন, পরিচালক ফাহমিদা আক্তার শিখা, খান জাহান আলী সোয়েটারের চেয়ারম্যান মো. তাজুর ইসলাম, এমডি আব্দুল জলিল শেখ, পরিচালক মীর মো. শওকত আলী এবং পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম। এদিকে একই ঘটনায় হলমার্কসহ ৬টি প্রতিষ্ঠানের নন-ফান্ডেড ১ হাজার ৭০৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান চলছে। এ আত্মসাৎ সংক্রান্ত অভিযোগে ৪১ টি ব্যাংকের ১১০ টি শাখা জড়িত আছেন। এরমধ্যে হলমার্কের ৩ জন, ব্যাংক কর্মকর্তার ১৯ জন এবং পর্ষদ সদস্য ৯ জনসহ মোট ৩১ জনের সম্পদ বিবরণী যাচাই-বাছাই চলছে। মামলার তন্তদ টিমের প্রধান ও দুদকের উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী বলেন, এর আগে হলমার্ক গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারীতে ১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে করা ১১ টি মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে দুদক। এবার একই ঘটনায় হলমার্কের সহযোগি ৫টি প্রতিষ্ঠানের ফান্ডেড দায় সংক্রান্ত প্রায় ৩৭৩ কোটি টাকা আত্মসাতে দায়ের করা ২৭ টি মামলার চুড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি। চলতি সপ্তাহ বা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তা কমিশনে জমা দেওয়া হবে। উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- উপ-পরিচালক এসএমএম আখতার হামিদ ভূঞা, সহকারী-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত, সহকারী-পরিচালক মো. মশিউর রহমান, উপসহকারী পরিচালক মো. মুজিবুর রহমান, মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন এবং সেলিনা আখতার মনি। প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ফান্ডেড ১ হাজার ৫৬৮ কোটি ৪৯ লাখ ৩৪ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনায় ১১টি মামলা দায়ের করে দুদক। এসব মামলায় ২৭ জনকে আসামি করা হয়। এবং ২০১৩ সালের ৪ অক্টোবর ওই ১১ মামলার চার্জশিট সংশ্লিষ্ট থানা ও আদালতে দাখিল করে দুদক। ইতিমধ্যে এসব মামলায় হলমার্ক গ্রুপের এমডিসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।