নববর্ষকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কুমিল্লাবাসী

0
63

comillaসম্পূর্ণ বাঙালিয়ানা আর ঐতিহ্যগতভাবে বাংলা নতুন বর্ষকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে কুমিল্লা মহানগরী। নতুন বর্ষকে বরণ করতে দিনব্যাপী লোকজ মেলা ও বর্ণাঢ্য উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে কুমিল্লায়।

১৪২১কে বরণ করে নেওয়ার জন্য নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো। এসব সংগঠনগুলোর আয়োজনের মধ্যে থাকছে দিনব্যাপী নাটক, গান এবং কবিতা আবৃত্তি।

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মধ্যে থাকছে- সঙ্গীত, নৃত্য, আদিবাসী ঐতিহ্য উপস্থাপন, ফ্যাশন শো, মুকাভিনয়, ঐতিহ্যবাহী বলীখেলা, লাঠিখেলা, কাবাডি, বউচি খেলা, পুতুল নাচসহ নানা আয়োজন। এছাড়া, থাকছে দিনব্যাপী লোকজ মেলা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন স্থানীয় লোকসঙ্গীত শিল্পীরা। সেই সাথে কুমিল্লা সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে নগরীর ধর্মসাগরে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

মহানগরীর জামতলা, টাউন হল মাঠ, ময়নামতি, শালবন বিহার এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্নস্থানে লোকজ মেলা বসবে। কুমিল্লা শহরের রাজগঞ্জ বাজারে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বসবে ঐতিহ্যবাহী ইলিশের বাজার। পহেলা বৈশাখের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দিতে এই ইলিশ বাজারের আয়োজন বলে জানান বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বৈশাখ মানেই হালখাতা। পুরোনো হিসাবের খাতা বন্ধ করে নতুন হিসাব রাখা। অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা পহেলা বৈশাখে হালখাতা করে থাকেন। তবে, পুরো বৈশাখ মাস ধরেই ব্যবসায়ীদের হালখাতা চলে থাকে বলে জানান একাধিক ব্যবসায়ী। হালখাতায় মিষ্টি, জিলেপি এমনকি রসমালাই দিয়ে আপ্যায়ন করানোর রীতি অনেকদিন ধরে পালন করে আসছে কুমিল্লাবাসী।

হালখাতা বাঙালির অনেকদিনের পালিত একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হলেও বর্তমানে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাকী বিক্রি না করায় হালখাতার ঝামেলা থেকে মুক্ত। কুমিল্লা শহরের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লেখাই রয়েছে বাকী বিক্রি হয় না।

এসবের পরও হালখাতা বাঙালির বৈশাখকে আরও আনন্দ এবং সুখকর করে তোলে বলে জানান ব্যবসায়ীদের অনেকে। কুমিল্লা মহানগরী ছাড়াও জেলার অন্যান্য উপজেলার বিভিন্নস্থানে বৈশাখ বরণের আমেজ লক্ষ করা গেছে।

এদিকে, বৈশাখী উৎসব উপলক্ষে পুরো শহরকে নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা।

পুরাতনকে পিছনে ফেলে নতুনের আহ্বান ধ্বনিত করবে এবারের বৈশাখ এমনটিই প্রত্যাশা কুমিল্লার সর্বস্তরের মানুষের।

কেএফ