বৈশাখে চাহিদা বাড়ে কুমিল্লার খাদি আর রসমালাইয়ের

0
112

khoddorএমনিতেই দেশব্যাপী কুমিল্লার খাদি কাপড়ের ব্যাপক চাহিদা, তার ওপর আবার বৈশাখ! বৈশাখে দেশি পণ্য খাদির প্রতি ঐতিহ্যগত কারণেই টান থাকে সবার। অনেকেই বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসবের দিনটিতে দেশি পোশাকে সাজাতে ভালোবাসেন। আর তাইতো বৈশাখ আসলেই কুমিল্লার খাদি কাপড়ের কদরও বেড়ে যায় বহু গুণ।

এবারও পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্য খাদি ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্নস্থানে পাইকারিভাবে কাপড় পাঠাচ্ছেন। কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড়ে কয়েকটি খাদি দোকানের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৈশাখ উপলক্ষে সারাদেশ থেকে অর্ডার আসতে শুরু করেছে অনেক আগেই। এসব অর্ডারের মাল ডেলিভারি দেওয়ার জন্য এখন তারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

কুমিল্লার জনপ্রিয় খাদি কাপড়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘শুভেচ্ছা খাদি বিতান’ এখন থেকে দেড় মাস আগে থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুনলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বৈশাখের অর্ডার পেয়েছে। এখন তারা পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার জন্য খুব ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কুমিল্লার যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্নস্থানে খাদি কাপড় সরবরাহ করছে তাদের মধ্যে খাদি বস্তবিতান, পূর্বাশা গিফট এন্ড খাদি, খাদি প্রিয়াঙ্গণ, খাদি জ্যোৎস্না এবং খাদি কুটির শিল্প ভবনের পণ্যগুলো রং আর ডিজাইন বা নকশাভেদে পাঞ্জাবি ৪৫০ থেকে এক হাজার ৪৫০ টাকা, ফতুয়া ২২০ থেকে ৫৫০ টাকা, মেয়েদের শর্ট ফতুয়া ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা ও থ্রিপিস ৪৫০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। আর খাদির থানকাপড়ও প্রতি গজ ৬০ থেকে ২৫০ টাকা দামে ব্যাপকহারে বিক্রি হচ্ছে।

শুভেচ্ছা খাদি বিতান এর কর্ণধার মো. খোকন অর্থসূচককে বলেন, বৈশাখ আসলে সারাদেশে আমাদের তৈরি খাদি কাপড় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। আমাদের কাপড়ের চাহিদা সারাদেশেই রয়েছে। প্রতিবারের তুলনায় এবার চাহিদা একটু বেশি বলেও জানান খোকন।

এদিকে বৈশাখ আসলেই খাদি কাপড়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বিক্রি হয় কুমিল্লার বিখ্যাত মাতৃভান্ডারের রসমালাই। হালখাতাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অর্ডার আসে রসমালাইয়ে।roshmalai-bg20120520122833

আলেখার চরে অবস্থিত মাতৃভান্ডারের একাধিক শো-রুমে কথা বলে জানা যায়, হালখাতার জন্যই বৈশাখে রসমালাইয়ের চাহিদা বেশি। দেশের বড় শহরগুলোতে তারা রসমালাই সরবরাহ করে বলেও জানা যায়।

এদিকে কুমিল্লা মহানগরীর বৈরাগি পাড়ায় বাঁশি শিল্পীরা পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাঁশি তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

বাঁশি শিল্পী কমল অর্থসূচককে বলেন, বৈশাখ উপলক্ষে আমাদের তৈরি বাঁশি কুমিল্লাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার চাহিদা পূরণ করে থাকে। বৈশাখ আসলে আমরা বেশি করে বাঁশি তৈরি করে থাকি।

এ অঞ্চলের তৈরি খাদি কাপড়, রসমালাই এবং বাঁশি ছাড়াও মাটির তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্র বৈশাখের আমেজকে পরিপূর্ণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

কেএফ