খুচরা টাকায় অনিহা ব্যাংকের

0
66

Bank-newsমোবাইল ফোন রিচার্জের ব্যবসা করেন জাহাঙ্গীর আলম। ময়মনসিংহ জেলার সদর থানার এ ব্যবসায়ীর কাছে খুচরা টাকা আসাই স্বাভাবিক। এ খুচরা টাকা নিয়েই বিপদে পড়েছেন তিনি। সম্প্রতি বড় নোটের টাকার সাথে কিছু খুচরা টাকা নিয়ে স্থানীয় প্রাইম ব্যাংকে জামা দিতে যান এ ব্যবসায়ী। কিন্তু বড় নোটের টাকাগুলো জমা নিলেও খুচরা টাকাগুলো জমা করতে পারেননি তিনি। ব্যাংকের অনাগ্রহে খুচরা টাকাগুলো ফেরত আনতে বাধ্য হন তিনি।

একই ধরণের বিড়ম্বনায় পড়েছেন চট্টগ্রামের ‘ইসলাম স্টোরস’ প্রতিষ্ঠানের  সত্ত্বাধিকারী মো. ইসলাম। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগ করেছেন, তার প্রতিষ্ঠান দুই টাকার নোট এবং এক, দুই ও পাঁচ টাকার কয়েন মিলে মোট ৩০ হাজার টাকা চট্টগ্রামের পাহাড়তলির পূবালী ব্যাংক শাখায় জমা দিতে গেলে ব্যাংক তা গ্রহণ করেনি। এর ফলে তিনি চরম হয়রানির স্বীকার হয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যাবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন। তাই এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান এ ব্যবসায়ী।

সম্প্রতি ব্যাংকের খুচরা টাকা জমা না নেওয়ার এমন অভিযোগ আরও অনেক জমা পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকে।  সবারই ভাষ্য প্রায় একই রকম। তবে এর মধ্যে কিছু কিছু গ্রাহক খুচরা টাকা জমা করতে ব্যাংকগুলো কমিশনও নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। আর তাই সবাইকেই খুচরা টাকা জমা না করেই ফেরত আসতে হয়েছে বলে তারা অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। এ দূর্ভোগ থেকে বাঁচতে এসব গ্রাহক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

খুচরা টাকা জমা না নেওয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, খুচরা এবং ছেড়া-ফাটা টাকা নিয়ে কোনো গ্রাহক যেন ব্যাংকের মাধ্যমে বিড়ম্বনায় না পড়ে বা হয়রানির শিকার না হয় তার জন্য ব্যাংকগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও মাঝে মাঝে এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে ছদ্মবেশে বিভিন্ন ব্যাংকে অভিযান চালায়। সম্প্রতি খুচরা টাকা জমা না নেওয়ার কিছু অভিযোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এসেছে। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তারা।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পূবালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা অর্থসূচককে বলেন, খুচরা টাকা জমা করা হয় না এটা ঠিক নয়। অনেক গ্রাহক মোটা অঙ্কের টাকা জমা করার সময় ২, ৫ এবং ১০ টাকার অনেকগুলো নোট নিয়ে আসেন। তাছাড়া এ নোটগুলো ভালো করে গুছানো না থাকায় গুণতে অনেক সময় নেয়। যেদিন ব্যাংকে চাপ বেশি থাকে সেদিন এ টাকা নিয়ে বিপদে পড়তে হয় আমাদের। তাই অনেক সময় আমরা এ ধরণের গ্রাহকদের পরে বা যখন ব্যাংকের চাপ থাকে না তখন এ টাকা নিয়ে আসতে বলি। তাছাড়া ওই খুচরা টাকা যখন অন্য গ্রাহককে আমরা দিতে যায় তখনও তারা নিতে চান না। এ কারণে এ টাকা নিয়ে তাদের বিপদে পড়তে হয় বলে জানান তিনি।

এ কর্মকর্তা আরও বলেন, বাজারে খুচরা টাকার সংকট রয়েছে। গ্রাহকরা চাইলে নিজেরাই বাজারে বিনিময় করে এ খুচরা টাকার পরিবর্তে নোট নিয়ে আসতে পারেন। এতে ব্যাংকেরও হয়রানি কমে বলে তিনি মনে করেন।