এবি ব্যাংকের সাড়ে নয় কোটি টাকা আত্মসাৎ-রোববার চার্জশিট দেবে দুদক

0
89
দুদক
দুর্নীতি দমন কমিশনের লোগো। ফাইল ছবি

ACCজাল সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে আরব বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে নয় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার চার্জশিট আগামি রোববার দাখিল করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় ব্যাংকটির কর্মকর্তাসহ জালিয়াত চক্রের ২০ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক মো. খায়রুল হুদা।

দুদক সূত্র জানায়, একটি জালিয়াত চক্র নিজেদের নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে খুলনা অক্সিজেন নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান খোলে। চক্রটি প্রতিষ্ঠানের নামে এবি ব্যাংক ধানমণ্ডি শাখায় ২০০৪ সাল থেকে ২০০৭ সালের বিভিন্ন সময়ে ২০ কোটি টাকার জাল সঞ্চয়পত্র জমা করে। আর এ সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে ব্যাংক থেকে নয় কোটি ২৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা উত্তোলন করে তারা। ব্যাংকের ম্যনেজারসহ ঋণ ইস্যুকারী কর্মকর্তা লাভবান হওয়ার আশায় সঞ্চয়পত্রগুলো যাচাই-বাছাই না করে জালিয়াতি চক্রকে ধারাবাহিকভাবে ঋণ দিতে থাকে।

অন্যদিকে জালিয়াত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ঋণ উত্তোলনের পর ব্যাংকের এসব টাকা পরিশোধ না করে পরস্পর যোগসাজসে আত্মসাৎ করে। বিষয়টি নজরে আসলে এ অভিযোগে ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপকসহ জালিয়াত চক্রের ১৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করে ব্যাংকটির প্রধান শাখা। পরবর্তীতে দুদকের তদন্তে আরও পাঁচ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। কিন্তু ব্যাংকটির ম্যানেজার এমএম আসিরুল ইসলাম মারা যাওয়ায় মোট ২০ জনকে আসামী করে চার্জশীট অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

অভিযোগপত্রের আসামীরা হলেন- এবি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার এমএম মাকছুদ মজুমদার, জালিয়াত চক্রের সদস্য আতিকুর রহমান, তৌহিদ মাহমুদ, নজরুল ইসলাম, আব্দুল খালেক ওরফে ওমর চন্দ্র দাস, আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা, মো. জামাল উদ্দিন হাওলাদার,  মো. দুলাল হাওলাদার,  জাকির শেখ, কাজী জসিমুল ইসলাম, কাজী জহিরুল ইসলাম, জাকির হোসেন, মো. শাহ আলম,  তানভীর মাশফু, এইচ এম বারিক, আমিনুল ইসলাম, আইনুল হক, আসাদুজ্জামান মিঠু, মো. নুরুজ্জামান ফকির, মিসেস মুরশিদা আফরিন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খায়রুল হুদা বলেন, ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে জাল সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে থানায় মামলা হয় ২০০৯ সালে। কিন্তু প্রশাসনিক দুর্বলতায় মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকায় তদন্তের দায়িত্ব আসে দুদকের কাছে। তদন্ত শেষে মামলার এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ৫(২) ধারায় চার্জশিট দাখিল করার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়।