নতুন বছরকে বরণ করতে চট্টগ্রামে ব্যাপক প্রস্তুতি

0
77
চট্টগ্রামে বৈশাখ প্রস্তুতি

চট্টগ্রামে বৈশাখ প্রস্তুতিখড়,বাঁশ, বেত আর নানান রঙ্গের কাগজ নিয়ে তৈরি করা হয়েছে পেখম মেলা ময়ূর ও উড়ন্ত ফড়িং। আরো তৈরি করা হচ্ছে বাঘ, দোয়েল, হাতি, পেঁচা, সাপ ছাড়াও রঙবেরঙের বেলুন, ফেস্টুন, নানা রঙ ও ঢঙের মুখোশ। গেল সাতদিন ধরে চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী ব্যস্ত এমন জীবজন্তুর প্রতিমূর্তি আর পথে প্রাঙ্গণে আলপনা আকাঁয়।

শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট নয়। শিল্পকলা একাডেমি, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রায় অর্ধ শতাধিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলা নতুন বছরকে বরণ করতে নিচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রতিবছরের মতো নগরীর ডিসি হিলে সবচেয়ে বড় আয়োজনটি করতে যাচ্ছে সমন্বিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ।

প্রতি বছরের মতো এবারের পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন নগরীর নানা স্থানে বর্ণিল সব অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নগরীর রাজপথগুলোও সেজেছে নানা আলপনায় । এসব আলপনায় শোভা পাচ্ছে লোকজ সংস্কৃতির কুলা, ঢোল, তবলা, লতা-পাতা, ফুলসহ বাঙালি সংস্কৃতির হাজারও উপকরণ। আর শোভাযাত্রার হাজার বছরের বাঙ্গালির ইতিহাস, ঐতিহ্য তুলে ধরতে সাপ, ঘোড়া, ফড়িং, গরু ও পেঁচাসহ বিভিন্ন জীবজন্তুর প্রতিমূর্তি ও মুখোশ প্রভৃতি বহন করবে অংশগ্রহণকারীরা। তাই এসব তৈরির প্রস্তুতি চলছে সবখানে জোরেসোরে।

চট্টগ্রামে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসা সাংস্কৃতিক সংগঠন বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রাম। বর্ষবরণ উপলক্ষে সংগঠনটির  নির্বাহী সদস্য জাবেদ হোসেন অর্থসূচককে জানান, প্রতিবছরের মতো এ বছরও আমরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবো।

বোধনের মতো চট্টগ্রামে প্রায় অর্ধশতাধিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি নগরীর স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নতুন বছরকে বরণ করতে নিচ্ছে নানা প্রস্তুতি। প্রস্তুতিতে থাকছে শোভাযাত্রা, চিরায়ত গ্রাম বাংলার আবহমান সংস্কৃতি, লোকজ মেলা, নাচ, আবৃত্তি, মুখাভিনয়, পুতুল নাচ, বউচি, বলিখেলা, কনসার্ট , গুণীজন সম্মাননাসহ বর্ণাঢ্য আয়োজন।

বৈশাখ উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীতে রঙের ছোঁয়া লেগেছে পোষাকেও । ফ্যাশন হাউজ ও বুটিক হাউজগুলোও  বর্ণিল বৈশাখী পোশাকে সাজিয়ে তুলেছে। নগরীর বিপনী বিতানগুলোতেও চলছে কেনাকাটার ধুম।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক  তানভীর আজম সিদ্দিকী  অর্থসূচককে জানান, বর্ষবরণ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর শিল্পকলা একাডেমীতে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া নগরীর সকল স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বর্ষবরণ ও বিদায় উৎসবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাংলা নববর্ষ বরণ ও পুরোনো বছরের বিদায় উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য আয়োজন আর উৎসব মুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে নগরীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্ষবরণের মুল আয়োজনস্থল চট্টগ্রাম ডিসি হিল প্রাঙ্গণ সিসিটিভি ক্যামরায় পর্যবেক্ষনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বর্ষবরণের দিন নগরীতে দুই হাজার অতিরিক্ত পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।

সকলের প্রত্যাশা, শুধু একদিনের জন্য নয়, পুরো বছর জুড়ে যেন থাকে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চর্চা।