অড লটের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলছে

0
132
অড লট, odd lot

অড লট, odd lotঅবশেষে অড লট শেয়ারের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) নতুন ট্রেডিং সফটওয়্যার চালু হলে অডলট শেয়ারও সাধারণ লটের মত সমান স্বাচ্ছন্দ্যে কেনা-বেচা করা যাবে। এমনকি শুধু একটি শেয়ারও লেনদেন করা যাবে ওই সফটওয়্যারে। আগামি অক্টোবর মাসে ডিএসইতে ওই সফটওয়্যার চালু হতে পারে।

উল্লেখ, মূল বাজারে শেয়ার কেনা-বেচা হয় লট বা গুচ্ছ আকারে।নির্দিষ্ট সংখ্যক শেয়ার নিয়ে মার্কেট লট গঠিত।বর্তমানে বাজারে ১০, ১০০, ২০০,২৫০ ও ৫০০ শেয়ার নিয়ে গঠিত লট আছে। লট বা গুচ্ছে নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে কম শেয়ার থাকলে সেটি অড লট হিসেবে বিবেচিত।

সাধারণত বোনাস লভ্যাংশ বা রাইট প্রস্তাব থেকে অড লট সৃষ্টি হয়।ধরা যাক, একজন ব্যাক্তির কাছে এবিসি কোম্পানির ৫০০ শেয়ার।প্রতি ১০০ শেয়ার নিয়ে এর মার্কেট লট। কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে লভ্যাংশ হিসেবে বিনিয়োগকারী ৭৫ টি শেয়ার পাবেন।এটি মার্কেট লটের চেয়ে কম। এটিকে মার্কেট লটে পরিণত করতে হলে আরও ২৫ টি শেয়ার কিনতে হবে।

বর্তমান বিধি অনুসারে, অড লট শেয়ার বিক্রিতে দৃশ্যত কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কেনার ক্ষেত্রে শর্ত পরিপালন করতে হয়। বিধি অনুসারে একজন বিনিয়োগকারী লট পূরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শেয়ার কিনতে পারেন। কিন্তু তিনি এমন সংখ্যক শেয়ার কিনতে পারবেন না, যা লট পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শেয়ারের চেয়ে বেশি। ধরা যাক, বাজারে এবিসি কোম্পানির ২৫ টি শেয়ার বিক্রির কোনো প্রস্তাব নেই। কিন্তু ৫০ টি শেয়ারের বিক্রেতা আছে। ওই বিনিয়োগকারী চাইলেও এ ৫০ টি শেয়ার কিনে তার লট পূরণ করতে পারবেন না, কারণ তাতে ২৫ টি শেয়ার বেশি হয়ে যাবে। এমন কঠিন ও অযৌক্তিক শর্তের কারণে অনেক সময় বিনিয়োগকারীরা অড লট শেয়ার নিয়ে বসে থাকেন।

নতুন সফটওয়্যার চালু হলে এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলবে বিনিয়োগকারীদের। অন্যদিকে লেনদেনে একটু হলেও গতি বাড়বে।

নতুন সফটওয়্যারের বিষয়ে যোগাযোগ করলে বিএসইসি’র মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান অর্থসূচককে বলেন,  অডলট নিয়ে দিনের পর দিন বিনিয়োগকারীদের অনেক ভোগান্তি ছিল। ডিএসই’র  নতুন সফটওয়ারে যদি এ পদ্ধতি থাকে,তাহলে ভালো। পুঁজিবাজারের জন্য একটি সুখবর।

তিনি বলেন, এমন কিছু হলে বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশন বৈঠকে সেটি অনুমোদন দিবে।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন নতুন এ সফটওয়্যার আগের সফটওয়্যারের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি কার্যকর। তাই এ সফটওয়্যারে ডেরিভেটিভস মার্কেট, কমোডেটি পণ্য চালুসহ অনেক সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এতে পুঁজিবাজারে সেল-বাই অর্ডারের জটিলতা নিরসন ও ক্রটিহীন লেনদেনের সুবিধার পাশাপাশি অডলট মার্কেটে লেনদেন থেকে মুক্তি পাবে বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া ব্রোকারেজ হাউস ও স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবসা বাড়বে বলেও মনে করেন তারা ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর এক পরিচালক অর্থসূচককে বলেন, ‘পুরানো সফটওয়্যারটির সক্ষমতা কম থাকায় খুচরা শেয়ার কেনা-বেচার জন্য বিনিয়োগকারীদের আলাদা করে মার্কেট করা হয়েছিল। কিন্তু এখন বিনিয়োগকারীদের এ মার্কেটে শেয়ার কেনা-বেচা করতে গিয়ে দিনের পর দিন ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ফলে বিনিয়োগকারীদের কথা চিন্তা করে আগামি অক্টোবরে ব্যাপক সক্ষমতা সম্পন্ন নতুন সফটওয়্যার চালু হচ্ছে। সফটওয়্যারটি চালু হলে পুঁজিবাজারে অডলট মার্কেট থেকে বিনিয়োগকারীরা মুক্তি পাবে। তবে খুচরা শেয়ার কেনা বেচার ক্ষেত্রে কমিশন হার বাড়ানো হতে পারে।’

তিনি বলেন, আগামি অক্টোবরে নতুন সফটওয়্যার চালু হলে, সে সময় পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ বিষয়টি নিরসনের জন্য আমরা বলবো। এতে করে বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবে।

ডিএসই সূত্রমতে, লট অথবা খুচরা শেয়ারের পাশাপাশি বছর শেষে বোনাস হিসেবে বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে পাওয়া শেয়ার বিক্রি করতে গিয়ে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। অনেকেই খুচরা এ শেয়ারগুলো বিক্রি করতে না পেরে বিও হিসাবে ফেলে রাখছেন। এতে করে লাখো বিনিয়োগকারীর কোটি কোটি টাকা আটকে আছে অডলট হিসেবে। পুঁজিবাজারের এ অডলট সমস্যা সমাধনে করতে ডিএসইর পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এ লক্ষ্যে ১৭৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে গত ২১ মার্চ নাসডাক ও ফ্লেক্সট্রেডের সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদী চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ডিএসই কতৃপক্ষ। চুক্তি অনুসারে নতুন এ সফটওয়্যারে প্রতিদিন ২০ হাজার কম্পিউটারের মাধ্যমে ২৫ লাখ শেয়ারের (হাওলা) হাত বদল করা যাবে। আগের সফটওয়্যারে চার হাজার কম্পিউটারের মাধ্যমে হাত বদল করার সক্ষমতা ছিল পাঁচ লাখ। পাশাপাশি নতুন এ সফটওয়্যারে প্রতি সেকেন্ডে দুই হাজার (সেল-বাই) অর্ডার গ্রহণ করতে পারবে। এর মধ্যে এক হাজার অডার ট্রেড করতে পারবে। বর্তমানে সফটওয়্যারে প্রতি সেকেন্ডে মাত্র ৪৬টি অডার ট্রেড হয়।