চার জেলায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৫

0
9
প্রতীকী ছবি

দেশের চার জেলায় বন্দুকযুদ্ধে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে সিলেট ও মুন্সীগঞ্জে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দু’জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফে দু’জনের এবং খুলনায় একজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে আজ বুধবার ভোর পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই বিভিন্ন মামলার আসামি। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আজ বুধবার ভোর ৪টার দিকে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পূর্ব সোনারং গ্রামের আলম শেখের বালুর মাঠ এলাকায় একটি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত ব্যক্তির নাম আবুল হোসেন (৪৭)। তিনি উপজেলার কুণ্ডেরবাজার এলাকার বাসিন্দা।

র‌্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জের উপ-পরিচালক মেজর আশিক বিল্লাহ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব ভোরে টঙ্গিবাড়ীর পূর্ব সোনারং গ্রামে অভিযানে যায়। সোনারং মেইন রোডের পাশে আবুল হোসেন তার বাহিনীর চার-পাঁচজন সদস্য নিয়ে সভা করছিলেন। তারা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি করে। তখন র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। পরে সেখান থেকে আবুল হোসেনক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় টঙ্গিবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ সময় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, তিনটি গুলি, একটি ম্যাগজিন, ৫০০টি ইয়াবা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা আছে, যার বেশিরভাগ মাদক আইনে দাবি র‌্যাবের।

অপরদিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানার শ্রীরামপুর এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে। নিহত ব্যক্তির নাম শহীদ মিয়া। তিনি তালিকাভূক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানায় র‌্যাব।

র‌্যাব-৯ এর গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মনিরুজ্জামান জনান, মাদক বেচাকেনার খবর পেয়ে র‌্যাব শ্রীরামপুর এলাকায় অভিযানে যায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি করে। তখন র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। পরে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে শহীদ নামে একজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থকে একটি বিদেশি পিস্তল ও বিপুল সংখ্যক ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে ইয়াবার চালান খালাসকে কেন্দ্র করে দু’দল ইয়াবা ব্যবসায়ীর গোলাগুলির ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার ভোরে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৪টি এলজি, ৯ রাউন্ড গুলি ও ১০ হাজার ১৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন, সাবরাং ইউনিয়নের কচুবনিয়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে নজির আহমদ ওরফে ডাকাত নজির (৩৮) ও হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা নয়াপাড়ার আমির হামজার ছেলে আবদুল আমিন। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও মাদকসহ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

এদিকে, খুলনায় হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার আসামি মিরাজুল ইসলাম ওরফে মারুফ হোসেন ওরফে গরু মারুফকে (৪৩) গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দৌলতপুরের কার্তিককূল বালুর মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, ১টি পাইপগান, ১ রাউন্ড গুলি ও ৫৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে।

নিহত মারুফ দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের আব্দুল গফ্ফার শেখের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মোস্তাক আহমেদ জানান, কে বা কারা গরু মারুফকে গুলি করে হত্যা করেছে। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পড়ে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে মরদেহ সনাক্ত করেন।

অর্থসূচক/কেএসআর