স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তারেকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করতে বললেন সুরঞ্জিত

0
68
suronjit
ফাইল ছবি

suronjitবঙ্গবন্ধুকে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী বলায় তারেক রহমান ও বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের প্রতি রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করার আহ্বান জানিয়েছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। আ.লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদে থাকা এই নেতা একই সাথে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।

শুক্রবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত চলমান রাজনীতি বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

সুরঞ্জিত বলেন, “পঞ্চদশ সংশধোনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ৭ মার্চের ভাষণ সংবিধানে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে তার বিরুদ্ধে সাংবিধানিকভাবেই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করতে হবে এবং এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে”।

তবে কোনো কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মামলা করতে না পারলে আইন মন্ত্রণালয় একটা অধ্যাদেশের মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করতে পারবে বলেও জানান অভিজ্ঞ এই পার্লামেন্টারিয়ান।

তিনি বলেন, “তারেক রহমান এই বক্তব্যের মাধ্যমে শুধু ইতিহাসকেই বিকৃত করছে না বরং স্বাধীনতার মূল বিশ্বাস ও তত্ত্বের ওপর আঘাত হেনেছে। যারা এই দেশের ইতিহাস জানে না, সংবিধান মানে না তাদের এই দেশের নাগরিক হওয়ার কোনো অধিকার নাই”।

সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে শুধু তারেক রহমান নয় যারাই এই বক্তব্যের সমর্থন করেছে তাদের সকলের বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা পরিচালনার কথা বলেন তিনি।

১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় রীতি চালু সংবিধান সম্মত উল্লেখ করে সুরঞ্জিত বলেন, “সেসময় ফজলুল হক বনাম রাষ্ট্র একটি মামলা হয়েছিল যা সুপ্রিমকোর্ট পরিচালনা করে। বিচারপতি সায়েম ও মাহমুদ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ওই মামলার রায় প্রদান করেছিল। রায়ে বলা হয় সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় পদ্ধতি প্রবর্তন ও শেখ মুজিব এর প্রধানমন্ত্রী হতে সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই”।

উল্লেখ্য, পৃথিবীর ইতিহাসে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশেরই একমাত্র স্বাধীনতার ঘোষণা থাকলেও মার্কিন ঘোষণায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সুনির্দিষ্ট নেই। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবিধানে সন্নিবেশিত স্বাধীনতার ঘোষণা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয় এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে শেখ মুজিবের অবর্তমানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়। এছাড়া ওই ঘোষণায় রাষ্ট্রপতি এককভাবে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কথাও বলা হয়।

আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি ও সাংসদ হাজী মোহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন- মহিলা সংসদ সদস্য শিরীন নাইম পুনম, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান দুর্জয়, সাম্যবাদী দলের হারুন চৌধুরী প্রমুখ।

এসএসআর/কেএফ