দেশী দশের বৈশাখ আয়োজন

0
120
দেশী দশ

দেশী দশবাঙালীর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ এখন কড়া নাড়ছে। ক’দিন গেলেই পুরোজাতি ভাসবে বৈশাখের আনন্দ সাগরে। এই আনন্দকে আরও রাঙিয়ে তুলতে দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের ঝলকানিতে মুখরিত বসুন্ধরার দেশী দশ। যেখানে দেশীয় শিল্পিদের নিপুন হাতে সুনিপন কারুকাজের পোশাক ক্রেতাদের মন কেড়েছে। দেশি স্যালোয়ার কামিজ, শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়াসহ বাচ্চাদের পোশাক স্থান করে নিয়েছে এই বিপনিবিতানগুলোতে।

বিবিয়ানা: স্যালোয়ার-কামিজ, মসলিন শাড়ি, বৈশাখী পাঞ্জাবী, মেয়েদের ফতুয়া বিক্রিতে ব্যস্ত আছেন দেশি দশের বিবিয়ানা দোকানের বিক্রেতারা। ম্যানেজার খন্দকার আফজাল হোসেন অর্থসূচককে জানান, এবারের বৈশাখে মেয়েদের ফতুয়া, পাঞ্জাবী, সাদা ও লাল মসলিন বেশি বিক্রি হচ্ছে। অন্যবারের তুলনায় বিক্রি ভালো হচ্ছে।

বিবিয়ানায় পাঞ্জাবী ৮৪০ থেকে দেড় হাজার টাকা,  স্যালোয়ার-কামিজ ১২৫০ থেকে ৩৩৫০ টাকা, মসলিন শাড়ি তিন হাজার টাকা, মেয়েদের ফতুয়া ১২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

অঞ্জনস: মৃৎ শিল্পের ঐতিহ্য টেপা পুতুল ও কাঁথা শিল্পের ঐতিহ্য কাঁথাস্টিকস। এই দুইটি বিষয়কে সামনে নিয়ে এবার বৈশাখের জন্য পোশাক ডিজাইন করেছে অঞ্জনস। তাতে ছেলেদের পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, মেয়েদের থ্রিপিস, ফতুয়া, স্যালোয়ার শাড়ি-সহ নিজস্ব প্রোডাক্টস অঞ্জনস এক্সক্লুসিভে সাজানো হয়েছে।

অঞ্জনসে পাঞ্জাবী ৭৯৫ থেকে ২৫০০টাকা, ফতুয়া ৫৫০ থেকে ১ হাজার টাকা, শার্ট ৫৫০ থেকে ১ হাজার টাকা, শাড়ি ১ থেকে ১০ হাজার টাকা, স্যালোয়ার দেড় হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা, মেয়েদের ফতুয়া ৭৫০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

দেশাল: বৈশাখ উপলক্ষে বাচ্চাদের থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের পোশাকে সেজেছে দেশাল। বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও গরমকে প্রাধান্য দিয়ে এবার পোশাক ডিজাইন করা হয়েছে বলে জানানদেশী দশ ইনচার্জ রেহানা আক্তার। বললেন, বিক্রি ভালোই হচ্ছে। প্রত্যাশা পূরণ হবে যদি বাকী দিনগুলোতে বিক্রি বাড়ে। পাঞ্জাবী ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা, শাড়ি ৯৭০ থেকে ১৫০০ টাকা, মেয়েদের ফতুয়া ৩৮০ থেকে ১২০০ টাকা, থ্রিপিস ১৬০০ থেকে ২৬০০ টাকা, বাচ্চাদের ফতুয়া ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা ও বাচ্চাদের পাঞ্জাবী ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে।

রং: লুঙ্গী ও গামছার ডিজাইনে বৈশাখের নতুন শাড়ি এনেছে রং।এই ডিজাইনের শাড়ি ৮৫০ থেকে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা ও পাঞ্জাবী ১০৫০ থেকে  সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া থ্রিপিস ১৮৫০ থেকে ৫৫০০ টাকা, সিঙ্গেল কামিজ ১০৫০ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা, শার্ট ৫৫০ থেকে ১২৫০ টাকা, টি-শার্ট ৩৫০ থেকে ১২০০ টাকা, বাচ্চাদের পাঞ্জাবী ৭৫০ থেকে দেড় হাজার টাকা, ফতুয়া ৬৫০ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে।

নাগরদোলা: বৈশাখকে সামনে রেখে নাগরদোলায় পাওয়া যাচ্ছে তাঁত শাড়ি ৯২০ থেকে ১৪ হাজার ৯০০ টাকা, পাঞ্জাবী ৬৯০ থেকে ৪ হাজার ৯৯০ টাকা, থ্রিপিস ১৯৯০ থেকে ৯৯৯০টাকা সিঙ্গেল কামিজ ৬৯০ থেকে ২৭২০ টাকা পর্যন্ত। তাছাড়া নতুন প্রজন্মের জন্য রয়েছে ত্রয়ী কালেকশান। যা এবারের বৈশাখে বেশি চলছে বলে জানান বিক্রেতা। এছাড়া বাচ্চাদের শাড়ি ১৬৯০ থেকে ২৪৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাংলার মেলা: বৈশাখে এই দোকানে পাওয়া যাচ্ছে পাঞ্জাবী ৯৫০ থেকে ২০৫০ টাকার মধ্যে। তাছাড়া, শাড়ি ৫৫০ থেকে ৮ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কেক্রাফ্ট: দোকানের ব্যবস্থাপক নাসির জানান, এবার স্যালোয়ার, পাঞ্জাবী ও শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে। সুতির শাড়ি ৮৫০ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা, স্যালোয়ার ১৮৫০ থেকে ৫ হাজার টাকা, পাঞ্জাবী ৭৫০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে পাওয়া যাচ্ছে।

নিপুন: দোকানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোবারাক হোসেন মুছা জানান, এখন বিক্রি ভালো। তবে শেষ তিন দিনই লক্ষ্য বেশি বিক্রির জন্য। তিনি জানান তার দোকানে স্যালোয়ার ১৬৭৫ থেকে ৪ হাজার টাকা, শাড়ি ১২৯৫ থেকে ৬ হাজার টাকা, পাঞ্জাবী ৮৯৫ থেকে ২ হাজার ৬৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সাদাকালো: আর দেশিও ঐতিহ্যের আলোকে  পোশাকে ডিজাইন করেছে সাদাকালো। বৈশাখ উপলক্ষে দিচ্ছে ফ্যামিলি প্যাক। যার মূল্য ৭ হাজার টাকা।তাছাড়া শাড়ি ও পাঞ্জাবী-সহ বৈশাখীর থ্রিপিস বিক্রি করছে দোকানটি।