পোশাক শ্রমিকদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের দাবি

0
60
127 new rmg factory at sick list

127 new rmg factory at sick listদেশের তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি মোকাবেলায় ‘গার্মেন্টস শ্রমিক কল্যাণ তহবিল’ নামে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের দাবি জানিয়ে শ্রমিক নেতারা। এছাড়া আগামি ২৪ এপ্রিলের মধ্যেই রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। আর তেমনটি না হলে এর পরে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স (ইউএফজিডবিউ) আয়োজিত ‘রানা প্লাজা ও তাজরিন ফ্যাশনে হতাহতদের আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী যথাযথ ক্ষতিপূরণ’ শীর্ষক মানববন্ধনে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

এ সময় তহবিল গঠনের ব্যপারে বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তায় জন্য এ তহবিল গঠন  অপরিহার্য বলে দাবি করেন তারা।

তারা প্রস্তাব করেন  এ তহবিলে প্রতি মাসে কারখানা মালিকরা শ্রমিক প্রতি ৫ টাকা, সরকার একই হারে ৫ টাকা, শ্রমিকরা ৫ টাকা ও বায়ারদের ১০ সেন্ট জমা দেবে। দেশে তাজরীন ও রানা প্লাজার মতো কোনো ঘটনা ঘটলে যেন তাৎক্ষণিক ভাবে শ্রমিকদের সহায়তা দেওয়া যায় তার জন্যই এ তহবিল গুরুত্বপূর্ণ বলেও তাদের দাবি।

এদিকে আগামি ২৪ এপ্রিলের আগে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য গঠিত ‘রানা প্লাজা ডোনার ট্রাস্টে’ অনুমিত ৪০ মিলিয়ন ডলার জমা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। মানববন্ধনে বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানা প্রায় সহস্রাধিক শ্রমিক বিভিন্ন ব্যানার, ফেষ্টুন নিয়ে অংশগ্রহন করেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, রানা প্লাজা ধসে যে পরিমাণে মানুষ মারা গেছে পৃথিবীর ইতিহাসে এই রকম ঘটনা আর ঘটেনি। অথচ ওই ভয়াবহ দূর্ঘটনার এক বছর হতে চললেও এখনও যথাযথ ক্ষতিপূরণ পায়নি শ্রমিক পরিবারগুলো।

এছাড়া আহত শ্রমিকরা টাকার অভাবে সুচিকিৎসা পাচ্ছে না অভিযোগ করে তারা বলেন, অনতিবিলম্বে আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। নতুবা সংশ্লিষ্টদের এর জবাব দিতে হবে।

বক্তারা বলেন, ২৪ এপ্রিলের পূর্বেই রানা প্লাজা থেকে যেসকল বহুজাতিক পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান পণ্য ক্রয় করত তাদের থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও আইএলও’র উদ্যোগে গঠিত ‘রানা প্লাজা ডোনার ট্রাস্ট’ অনুমতি ৪০ মিলিয়ন ডলার জমা দিতে হবে। একই সাথে সকল ব্র্যান্ড, ক্রেতাদের এ ট্রাস্টে টাকা জমা দেওয়ার আহবান জানান।

এছাড়া ঘোষিত মজুরি বাস্তবায়ন, বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়া ও শ্রমিকদের নিরাপদ কর্ম পরিবেশ তৈরির দাবিও জানান তারা।

উল্লেখ্য, শতাব্দীর এই ভয়াবহ দূর্ঘটনায় ১১৩৭ জন শ্রমিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় ২ হাজার বেশি শ্রমিক। আর নিখোঁজ রয়েছে আরও অসংখ্য শ্রমিক।

আজকের মানববন্ধনে সংগঠনের সভাপতি রায় রমেশ চন্দ্রের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, কাওসার আহমেদ পলাশ, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, শোহেলী আফরোজ লাভলী, খলিলুর রহমান প্রমূখ।