উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য ১১ শতাংশ কম

0
77

bobo dhanএবছরও বোরো মৌসুমের জন্য ধানের উৎপাদন ব্যয়ের চাইতে সরকারি পর্যায়ে দাম ধরা হয়েছে কম। সম্প্রতি সরকার কৃষকের থেকে ধান ক্রয়ের জন্য এর দাম বেধে দিয়েছে। সরকার কৃষকরের কাছ থেকে এ বছর প্রতিকেজি ২০ টাকা দরে ধান কিনবে। অথচ কৃষকরা জানিয়েছে এবছর প্রতিকেজি ধানের উৎপাদন ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২৪ টাকা ২৩ পয়সা। সে হিসেবে প্রতিকেজি ধানের উৎপাদন ব্যয় গড়ে ২২ দশমিক ৫০ টাকা ধরে দেখা যায় উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় এবছর সরকারি পর্যায়ে ধানের দাম ১১ শতাংশেরও কম ধরা হয়েছে।

তবে কৃষকরা যেখানে জানাচ্ছে স্থানীয় ঋণের সুদ ও শ্রমমূল্য বাদে প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন ব্যয় ২০ টাকা ৫০ পয়সা  থেকে ২৪ টাকা ২৩ পয়সা সেখানে  সরকারি হিসেবে প্রতিকেজি ধানের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ টাকা ৫০ পয়সা।

উল্লেখ্য গত আমন মৌসুমে প্রতি কেজি ধানে ৩ থেকে ৯ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হয়েছে ধান চাষিদের। তখন শেরপুর জেলায় প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন ব্যয় ছিল ২০ টাকা ৭৩ পয়সা, রাজবাড়ীতে প্রতি কেজিতে ব্যয় ২৩ টাকা ৪৩ পয়সা, চুয়াডাঙ্গায় ২৫ টাকা ৭৩ পয়সা, দিনাজপুরে ২১ টাকা ৩৩ পয়সা। কিন্তু সরকারীভাবে প্রতি কেজি আমন ধানের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল মাত্র ১৭ টাকা ২ পয়সা।

এই অবস্থায় বেশ চাপে পড়েছেন দেশের ধান চাষিরা। কৃষক উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম অর্থসূচককে বলেন, সরকার প্রতিকেজি আমন ধানের ক্রয়মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ  করায় প্রান্তিক কৃষক অনেক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হবে। সরকারি কৃষি কর্মকর্তা প্রান্তিক কৃষকদের সাথে উৎপাদন ব্যয় সম্পর্কে কথা বলে তথ্য নিলে এত কম মূল্য নির্ধারণ করা হতো না।

চুয়াডাঙ্গা পল্লী উন্নয় কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন বলেন, প্রতিকেজি ধানের উৎপাদন ব্যয়ের চাইতে ক্রয়মূল্য ধরে কৃষকদের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করা হল।

তিনি জানান, কৃষিসংক্রান্ত বিভিন্ন সংগঠন, খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব অর্জনে কৃষিপণ্যের লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষি পণ্যের জাতীয় মূল্য কমিশন’ গঠনের দাবি জানিয়ে আসলেও এ বিষয়ে সরকার এখনও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এদিকে কৃষকদের এ দাবি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে এমন একটি সংগঠন সিএসআরএল (গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান)র নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান কর্মজীবী নারী পরিষদের  নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক অর্থসূচককে বলেন, খাদ্যশষ্যের দাম নির্ধারণে সরকার কাজ করছে। কিন্তু এ কাজে কোনো সুফল হচ্ছে না। যেসব কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে তদারকি করে শষ্যের উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা প্রান্তিক পর্যায়ে যায় না। ফলে তারা উৎপাদন ব্যয়ের সঠিক চিত্র জানে না।

তবে প্রান্তিক পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তারা যায় না এ বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিলেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বাজার বিভাগের উপপরিচালক মো. আব্দুর রশীদ।

তিনি বলেন, সরকার উৎপাদন ব্যয়ের সাথে সঙ্গতি রেখেই ধানের মূল্য নির্ধারণ করে। কিন্তু অঞ্চলভেদে উৎপাদন ব্যয় কম বেশি হতে পারে। কৃষকের ন্যায্য মূল্য দিতে সরকার সবসময় চেষ্টা করে। তবে যে সকল এলাকায় উৎপাদন ব্যয় বেশি সেসব এলাকার কৃষকরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

মাঠ পর্যায়ে  গিয়ে উৎপাদন খরচ যাচাই করা হয় কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতেই সরকার ধানের মূল্য নির্ধারণ করে।

তিনি বলেন, সরকার একটা নির্দিষ্ট সময়ে ধানের মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। ওই সময় বাজারে যে মূল্য থাকে তার উপর ভিত্তি করেই মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তখন বাজারে দাম কম থাকলে তো আর সরকারের করার কিছু নাই।

জেইউ