অবৈধ ভিওআইপি রোধে নতুন উদ্যোগ; মোবাইল অপারেটররাও দেখবে পরস্পরের যন্ত্রপাতি

0
100

VoIP-640অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) রোধে মধ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও বন্ধ হয়নি রমরমা অবৈধ ব্যবসা। ফলে গেল পাঁচ বছরে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। আর কল চুরি থেকে এ সময়ের মধ্যে  অবৈধ ব্যবসায়ীরা অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এই অবস্থায় বিপুল পরিমাণ এই রাজস্বের কথা চিন্তা করে অবৈধ ভিওআইপি ঠেকাতে এবার ভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। টেলিকম খাতের সব স্থাপনা পরিদর্শনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির পাশাপাশি থাকবে মোবাইল অপারেটররাও। পরিদর্শনের সময় এক অপারেটরের কর্মকর্তারা অন্য অপারেটরের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি দেখতে পারবেন।

বিটিআরসির বরাত দিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সংবাদে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে বৈধ-অবৈধভাবে প্রতিদিন দেশে কল আসে ১০ কোটি মিনিটের মত। আর এর  মধ্যে কেবল বৈধ কলের পরিমাণ মাত্র সাড়ে পাচঁ কোটি মিনিট। এ কারণে সরকার বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

তাই এইসব অবৈধ কল টার্মিনেশন বন্ধে এবার ভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বিটিআরসি আন্তর্জাতিক গেইটওয়ে-আইজিডব্লিউ এবং ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্চ-আইসিএক্স গুলোর কল মনিটরিং করবে। আর এ জন্য খুব শিগগিরই একটি  পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র খুলেছে বিটিআরসি।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস জানান আইজিডব্লিউ ছাড়াও মোবাইল অপারেটরদের কল মনিটরিং করতেও একটি কেন্দ্র বসানো হবে।

আর এ জন্য একটি মোবাইল ফোন অপারেটরের কর্মকর্তারা আরেক অপারেটরের যন্ত্রপাতি দেখতে পারবে।

উল্লেখ্য এর আগে অবৈধ ভিওআইপি রোধে বিটিআরসি, কলরেট অর্ধেক (৩ সেন্ট থেকে ১ দশমিক ৫ সেন্ট) এবং ভিওআইপি কলে রাজস্ব ভাগাভাগির রেট কমানোর (৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ) প্রস্তাব করে। সে সময় আশা করা হয় এর ফলে বৈধ পথে আসা কলের পরিমাণ বাড়বে।

কিন্তু এর পরে দেখা যায় বৈধ কলের সংখ্যা  কাঙ্খিত ৪ কোটি থেকে ১০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে নি।ফলে ভিওআইপি কলের রাজস্ব ভাগাভাগির নির্দিষ্ট কোনো সুরাহা হয়নি। বর্তমানে এই খাত থেকে বিটিআরসি পেয়ে থাকে ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ, মোবাইল অপারেটররা পেয়ে থাকে ২০ শতাংশ, ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ পায় ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) আর বাকী ১৫ শতাংশ পায় আইজিডব্লিউ অপারেটররা।

বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, অনেক বিদেশি বাংলাদেশে টুরিস্ট ভিসায় ঘুরতে এসে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে চালিয়ে যায় এই অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা। আবাসিক এলাকাগুলোতে বাসা ভাড়া করে তারা এই কাজ চালায়।

এই অস্থায় অবৈধ ভিওআইপির সাথে যারাই জড়িত হোক দেশের অর্থনীতি ও বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা বন্ধে সরকারের আরও কঠোর আইন ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।