বর্ষবরণে উৎসবের ঢেউ খুলনায়

0
72
bousak pic

1 bousak picউৎসবের আনন্দে বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে প্রস্তুতি চলছে শিল্পনগরী খুলনায়। নগরীর বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে নানা আয়োজনে চলছে প্রস্তুতি। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে খুলনা জুড়ে বর্ষবরণের উৎসবের ঢেউ ততই ছড়িয়ে পড়ছে ।

বিগত বছরের মতো নতুন বছরকে বরণ করে নিতে এবারও  খুলনায় নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। এদিন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ৭টায় সার্কিট হাউজ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে দিবসটি উপলক্ষে  থাকছে ব্যাপক আয়োজন। ১৪ এপ্রিল প্রত্যুষে তারা প্রতিবারের মতো বের করবে সুসজ্জিত শোভাযাত্রা।

বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী খুলনা জেলা সংসদ প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পয়লা বৈশাখ সকাল সাড়ে ৬টায় নগরীর সার্কিট হাউজ ও জজকোর্ট সংলগ্ন সড়কে প্রভাতী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে পঞ্চকবির গানের সাথে থাকবে লালন সাঁই, হাসন রাজা, রাধারমন দত্ত, বিজয় সরকার, গগন হরকরা, শাহ আব্দুল করিম, আব্বাস উদ্দিন, আব্দুল আলিম, সাধন সরকার ও সাঁওতালী গান। প্রভাতী অনুষ্ঠান শেষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও উদীচী কার্যালয়ে বৈশাখী আপ্যায়ন।

এছাড়া খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রে জাতিসংঘ শিশু পার্কে বসবে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের (কেইউজে) আয়োজনে সকালে খুলনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে রয়েছে বর্ষবরণ প্রীতিভোজ ও বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

রূপান্তর ও বর্ষবরণ পর্ষদ এর যৌথ আয়োজনে সকালে ডা. শহীদ মিলন চত্বর (সাত রাস্তার মোড়) থেকে শুরু হবে বর্ষবরণের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও পরে প্রধান কার্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এছাড়া, আজম খান কমার্স কলেজ, লোসাউক, আব্বাস উদ্দিন অ্যাকাডেমি, আর্ট স্কুল, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি, জেলা আইনজীবী সমিতি, হামদর্দ, মানবাধকার সংরক্ষণ কমিশন, লেখক শিবির, খুলনা সাহিত্য কেন্দ্র, প্রতিনিধি সংস্থা, ব্যাংক এশিয়া, জনতা ব্যংক, সোনালী ব্যাংক, খুলনা আর্ট একাডেমী, নাট্য নিকেতন, রাইটার্স ক্লাব, ভূইয়া কম্পিউটারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্কুল-কলেজ, উন্নয়ন সংস্থা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নিচ্ছে বর্ষবরণের বিভিন্ন আয়োজন। যার মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠাণ, মেলা, লোকখেলা, লোকগান ও পান্তা খাওয়া পর্ব।

এই দিনে খুলনা হোটেল রেস্তোরাঁগুলোতেও বিক্রি হবে নববর্ষের খাবার। এছাড়া গিলতলা চিড়িয়াখানা, খালিশপুর শিশুপার্ক ও মুসগুন্নী শিশু পার্কও নিয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আয়োজন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, অন্যান্য দিনের মতো এটিও একটি দিন; কিন্তু ভিন্ন। কারণ বাঙালি দিনটিকে সাজিয়ে নেয় নতুন অলংকারে ও নতুন ব্যঞ্জনায়। পেছনের ক্লেদ-কালিমা অথবা দুঃখ-অভাব অথবা ভুলের যন্ত্রণা পেছনে ফেলে মানুষ এগিয়ে যেতে চায় সামনের দিকে। তেমনি প্রত্যয়ে উদ্ভাসিত হয়ে তারা নতুন স্বপ্নে বরণ করে নিবে নতুন বছরকে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সাথী সাহা অর্থসূচককে বলেন, নতুন মানেইতো আনন্দ, আবেগ, এগিয়ে চলার উদ্যম আর উচ্ছ্বলতা। বাঙালির পরিচয়ের আলোকিত উপাদানগুলোর অন্যতম পয়লা বৈশাখ। জাতীয়তাবোধ বিকাশে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, শিল্প, কৃষি ও বাংলার নববর্ষ নিজস্ব সত্তার প্রতীক। যার কারণে আমরা ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষ সকলে এক হয়ে এই দিনটিকে বরণ করে নেব।

এছাড়া বর্ষবরণকে সামনে রেখে নগরীর মার্কেট ও বিপনী বিতানগুলোতে চলছে বৈশাখী পোশাক ও পণ্যের রমরমা বিকিকিনি। ব্যবসায়ীরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন হালখাতা অনুষ্ঠানের।

এদিকে, নির্বিঘ্নে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। বর্ষবরণের প্রতিটি অনুষ্ঠানস্থলে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সার্বিক নিরাপত্তায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, খুলনা জেলা পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আমর্ড ব্যাটালিয়ানসহ গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ একযোগে দায়িত্ব পালন করবে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সফিকুর রহমান জানান, পয়লা বৈশাখ নির্বিঘ্নে ও আনন্দমুখর পরিবেশে যাতে উদযাপন করা যায় সেজন্য পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সকল সজাগ ও সতর্ক থাকবে। বর্ষবরণ উপলক্ষে মহানগরীতে আয়োজিত বৈশাখী মেলা, অন্যান্য অনুষ্ঠান ও বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে সকল জনসমাগমস্থলে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিটিএসবি) সহকারী কমিশনার মো. মুহাইমিনুর রশীদ বলেন, নববর্ষের বৃহৎ জনসমাগমস্থল জাতিসংঘ পার্ক এবং শোভাযাত্রায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ অন্যান্য সকল সংস্থার সমন্বয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শপিং সেন্টার, মার্কেট, বড় বাজার, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া রেল স্টেশন, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালসহ জনসাধারণের চলাচল স্থানেও অনুরূপ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এআর