হরতাল-অবরোধে বিপর্যয় ভ্যাট আহরণে

NBR_Taka

NBR_Takaবিরোধী দলের ডাকা ধারাবাহিক হরতাল-অবরোধের কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে রাজস্ব আদায়।রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় শপিং মল পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।প্রতিদিনই লোকসানে থাকায় রাজস্ব পরিশোধেও ব্যর্থ হচ্ছেন তারা।আর এ কারণেই রাজস্ব আদায়ের অন্যতম খাত ভ্যাট আদায়ে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআর সূত্র জানায়,হরতাল-অবরোধসহ চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় গ্রামে সীমিতসংখ্যক দোকান খোলা থাকলেও রাজধানীর অধিকাংশ ছোট-বড় দোকান, শোরুম, শপিং মল পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।দোকানে বিক্রি কম থাকায় হিসাব মতো ভ্যাট পরিশোধের সক্ষমতা হারিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী।ফলে ভ্যাট পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

এনবিআর সদস্য মো.ফিরোজ শাহ আলম জানান,হরতাল অবরোধসহ যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাজস্ব কর্মকর্তারা দপ্তরে উপস্থিত থাকেন।গত দুই মাস যাবৎ আমরা শুক্রবারও অফিস করছি।কিন্তু দোকানে বিক্রি না থাকায় ব্যবসায়ীরা সময়মতো রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন। হরতাল,অবরোধসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এক দিনের হিসেবে ভ্যাট আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭০ শতাংশ কম হয়।এরকম চলতে থাকলে তা সমগ্র রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন তিনি।

গত কয়েক বছরের রাজস্ব আদায়ের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়,রাজস্ব আদায়ের বড় অংশই আসে মূ্ল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট থেকে।এ সময় গড়ে মোট রাজস্বের ৪১ শতাংশই এসেছে এ খাত থেকে।রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে বড় এ খাতের আদায় বহুলাংশে নির্ভর করে পাইকারি ও খুচরা বাজারের ছোট বড় দোকান,শপিং মল,শোরুমসহ বিভিন্ন বিপণি বিতানের বিক্রির ওপর।২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে মূসক খাত থেকে আদায় বাড়াতে ক্ষুদ্র আকারের দোকানকেও মূসকের আওতায় আনার পরিকল্পনা ছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)।
এদিকে ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন অর্থসূচককে জানান,সারা দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ২০ লাখ দোকান রয়েছে।এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে সাড়ে চার লাখ দোকান।মাঝারি মাপের একটি দোকানে স্বাভাবিক সময়ে গড়ে প্রতিদিন চার হাজার টাকা বা এর বেশি বিক্রি হয়।এ হিসাবে হরতাল,অবরোধসহ বিভিন্ন সহিংসতাপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এক দিন দোকান বন্ধ থাকলে গড়ে ২০ লাখ দোকানে ৮০০ কোটি টাকা থেকে এক হাজার কোটি টাকার কেনা-বেচা কম হয়।

তিনি আরও জানান,চলতি অর্থবছরের শুরুতে রাজনৈতিক সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এতে শপিং মল থেকে শুরু করে ছোট দোকানটিও নিয়মিত খোলা রাখা যাচ্ছে না।তাই ব্যবসায়ীদেরকে পুঁজি থেকে দোকান ও কর্মচারী খরচ চালাতে হচ্ছে।তাই তাদের পক্ষে কর সম্ভব হচ্ছে না।অপর দিকে এনবিআরের ভ্যাটের পরিমাণ প্রতি বছরই বাড়াচ্ছে।আর এ পরিস্থিতি অব্যহত থাকলে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ছেড়ে দেওয়া ছাড়া কোন পথ থাকবে না।