পোশাকখাতে নেওয়া বিজিএমইএ’র পদক্ষেপে সন্তুষ্ট বিদেশি কূটনীতিকরা

0
59

bgmeaরানা প্লাজা ট্রাজেডির পর পোশাকখাতে নেওয়া বিজিএমইএ’র পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বিদেশি কূটনীতিকরা। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে ট্রেড ইউনিয়নের অগ্রগতি নিয়েও সন্তোষ জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ওয়েস্টিং হোটেলে রানা প্লাজা ধসের এক বছর পূর্তির আগে ১৪ দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সন্তোষের কথা জানান কানাডার রাষ্ট্রদূত।

সংবাদ সম্মেলনে কানাডার রাষ্ট্রদূত হিদার ক্রুডেন সাংবাদিকদের বলেন, কানাডা বছরে বাংলাদেশ থেকে ১১০ কোটি ডলারের পোশাক কেনে। কাজেই এই খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এখন পোশাক খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হলো  শ্রমিকদের ডাটাবেজ তৈরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা। তবে কারখানায় শ্রমিকদের অধিকার ও সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত কল্পে ক্রেতা জোটের সঙ্গে কানাডা কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)’র বাংলাদেশের প্রতিনিধি শ্রীনিবাস রেড্ডি বলেন, পোশাক কারখানার অগ্রগতি নিয়ে আইএলও সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, এই খাতে ২০১০ সালে মাত্র দুইটি রেজিস্টার্ড ট্রেড ইউনিয়ন ছিলো। তবে গত ১৫ মাসে নতুন ভাবে আরও ১৩৪টি রেজিস্টার্ড ট্রেডইউনিয়ন হয়েছে। এটা পোশাকখাতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রানা প্লাজার শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি ২৩ এপ্রিলের মধ্যে এই তহবিলে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা পড়বে। তবে আর যদি অর্থ জমা নাই পড়ে তবে ঐ টাকা শ্রমিকদের মধ্যে বন্টন করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

কারখানা পরিদর্শন নিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাইবো অসমাপ্ত কাজ শিগগিরই শেষ করার জন্য। তবে এর জন্য একত্রে কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে কারখানাগুলোর সংস্কারের জন্য আর্থিক পরিকল্পনার কথা বলা হয়। রানা প্লাজা ধসের ঘটনা জাতিকে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দিয়েছে বলে উল্লেখ করে বলা হয় এখন থেকে সকল কারখানের শ্রমিকদের জীবন মানের উন্নতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আতিকুল ইসলাম জানান, রানা প্লাজার পর এই খাতে বহু চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন সময় এসেছে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার। কিভাবে আমরা কারখানার সংস্কার করবো, শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ দেবো, কারখানাগুলোকে একটা মানে নিয়ে যাবো সেই বিষয় নিয়েই রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

আজকের এই বৈঠকে জার্মানি, কানাডা, আমেরিকা, স্পেন, সুইডেন-সহ ১৪টি ক্রেতা দেশের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।