আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপনের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে নামছে দুদক

0
74

Shwapanঅবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য আবু সা্ঈদ আল মাহমুদ স্বপনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিন্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে নির্বাচনের হলফনামায় দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে গড়মিলের অভিযোগও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। দু’একদিনের মধ্যেই অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে নিশ্চিত করেন কমিশনের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য।

দুদক সূত্র জানায়, গত মহাজোট সরকারের  আমলে সংসদ্য সদস্য ছিলেন না বর্তমান এ সাংসদ। কিন্তু তার পরও দলীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে গত পাঁচ বছর নিজের আয় প্রায় ১২ গুণ বাড়িয়েছেন তিনি। আর তাঁর স্ত্রী মেহবুবা আলম শূন্য থেকে গত পাঁচ বছরে হয়েছেন কোটিপতি। পাঁচ বছর আগে কোনো জমি না থাকলেও এখন তিনি সাড়ে আট একর জমির মালিক।

সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হলেও ওই নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় তিনি নিজের বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন তিন লাখ টাকা। আর মৎস্য চাষ থেকে আয় দেখিয়েছিলেন ৯৫ হাজার টাকা। এবার তিনি জয়পুরহাট-২ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় সাঈদ আল মাহমুদ নিজের পেশা উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম রূপালী ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড ট্রেনিং লিমিটেড ও উইনার অ্যাসেটস লিমিটেড।

এবারের নির্বাচনের হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসা থেকে তার আয় গত পাঁচ বছরে সাড়ে ১১ গুণ বেড়ে ৩৪ লাখ ৭৫ হাজার ৫২০ টাকা হয়েছে। ২০০৮ সালে দেওয়া হলফনামায় তার স্ত্রীর কোনো আয় ছিল না। কিন্তু এবার ব্যবসা থেকে তার স্ত্রীর আয় বার্ষিক ১১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তাদের আয় ৪৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫২০ টাকা।
২০০৮ সালে দেওয়া হলফনামায় সাঈদ আল মাহমুদের স্ত্রীর কোনো সম্পদ ছিল না। কিন্তু এবার তিনি যে হলফনামা দিয়েছেন তাতে দেখা গেছে, ব্যাংকে তার স্ত্রীর নগদ রয়েছে চার লাখ ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রে তার বিনিয়োগ পাঁচ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। গতবার তার কোনো স্বর্ণালংকার না থাকলেও এবার চার লাখ টাকার ২০ ভরি স্বর্ণ হয়েছে। এ ছাড়া আড়াই লাখ টাকার টিভি, এসি ইত্যাদি রয়েছে।

২০০৮ সালে কোনো জমি না থাকলেও এবার মেহবুবা আলম আট একরের বেশি অকৃষি জমির মালিক হয়েছেন, যার দাম দেখানো হয়েছে ৪০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া জয়পুরহাটের শান্তিনগরে তিনি একটি বাড়ি নির্মাণ শুরু করেছেন, যার খরচ দেখানো হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। তবে অভিযোগ রয়েছে নির্মাণাধীন এ ভবনের ব্যয় মূল্য হবে কোটি টাকার বেশি।
সাঈদ আল মাহমুদ জয়পুরহাট, ঢাকার সাভার ও পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দুটি জমির জন্য ৫২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। এতে তিনি স্বজন, বন্ধু ও সহকর্মীদের কাছ থেকে তিনি ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে তার এ জমির মূল্য উল্লেখিত অর্থের চেয়ে অনেক বেশি বলে অভিযোগ এসেছে দুদকে।

এইউ নয়ন