গ্রামের বাড়ির পথে মূসার মরদেহ

0
59
musa

musaজাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিক এবিএম মূসার মরদেহ এখন তার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বাদ মাগরিব ফেনীর মিজান ময়দানে প্রবীণ এই সাংবাদিকের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর পর তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি ফুলগাজীর কুতুবপুরে নেওয়া হবে এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে এবিএম মূসার মরদেহ নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, সাংবাদিক কামাল লোহানী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আইনজীবী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘গণতন্ত্রের পক্ষে তিনি যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বিভিন্ন সময়ে সরকারের ত্রুটিবিচ্যুতি ধরিয়ে দিয়েছেন। এতে সরকার উপকৃত হয়েছে।’

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘এবিএম মূসার সঙ্গে আমার পরিচয় ৬২ বছরের। আমি তাঁকে জেনেছি একজন সৎ ও সাহসী সাংবাদিক হিসেবে। সামরিক শাসনের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তিনি যেভাবে এ দেশের মানুষের অধিকারের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন, তা অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

এবিএম মূসার এক সময়ের সহকর্মী সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘এবিএম মূসা ছিলেন সাংবাদিকদের অভিভাবক এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রসৈনিকদের একজন। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হলো।’

উল্লেখ্য, গত সোমবার ল্যাবএইডে ভর্তি হন এবিএম মূসা। তিনি ব্লাড ক্যান্সারের মতো রোগ মাইলো ডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে  বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে মধ্যরাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল।

এবিএম মূসার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পারিবারিক জীবনে এ বি এম মূসার তিন মেয়ে মরিয়ম সুলতানা, পারভীন সুলতানা ও শারমীন মূসা এবং এক ছেলে নাসিম মূসা। স্ত্রী সেতারা মূসা এ দেশের নারী সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ।