খুলনায় মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরবাসী

0
72
khulna
খুলনার মানচিত্র (ফাইল ছবি)

khulna-খুলনায় মশার যন্ত্রণায় নগরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। দিনের বেলায়ও মশার যন্ত্রণা থেকে রেহাই মিলছে না।

মশা নিধনে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নালা-নর্দমায় আবর্জনা জমে বাড়ছে মশার উৎপাত। বাসা বাড়ি ও হাসপাতালে দিনের বেলায়ও মশারি টাঙিয়ে ও কয়েল জ্বালিয়ে মশার কামড় থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ।

বৃহস্পতিবার নগরীর প্রাণ কেন্দ্র রয়্যাল মোড় এলাকার বাসিন্দা মাহবুব অর্থসূচককে বলেন, মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশনের কোনো তৎপরতা নেই। যার কারণে ঘরে-বাইরে, অফিস-আদালত কোথাও গিয়ে স্বস্তি নেই। দিন নেই, রাত নেই সব সময় মশার উৎপাত।

পশ্চিম রূপসা এলাকার এইচএসসি পরীক্ষার্থী আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা তিন তলায় থাকি। তিন তলা সাধারণত মশা কম থাকার কথা। কিন্তু দিনের বেলাও মশার কয়েল না জ্বালিয়ে লেখাপড়া করতে পারছি না।”

শুধু রয়্যাল মোড়ের মাহবুব ও শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহর নন, মহানগরীর প্রতিটি মানুষের এখন অন্যতম প্রধান সমস্যা মশা। মশার কয়েল বা স্প্রে করেও মশা দমন করা যাচ্ছে না। দিনের বেলা থেকেই মশার উপদ্রব শুরু হয়।

মশক নিধনে কেসিসির পক্ষ থেকে কার্যত তেমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে নগরবাসীর অভিযোগ।

চিকিৎসকরা জানান, মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু জ্বরসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে। এজন্য সকলকে সচেতন হতে হবে। মশক নিধনে কেসিসির মুখ্য ভূমিকা রাখতে হবে। সর্বস্তরে স্প্রের ব্যবস্থা করতে হবে।

কর্পোরেশনের কঞ্জারভেন্সি শাখা সূত্র জানায়, মশক নিধনে কেসিসি ২০০০ সালে ৪৫টি ফগার মেশিন ক্রয় করে। এরমধ্যে ১৪টি মেশিন সচল থাকলেও বাকি ৩১টি অকেজো হয়ে পড়েছে। কিন্তু ১৪ বছরের মধ্যে আর কোনো মেশিন কেনার উদ্যোগ নেয়নি কেসিসি। তবে মশক নিধনে চলতি বছরের মার্চ মাসে নগদ মূল্যে ২ কিস্তিতে ১ হাজার লিটার অ্যাডালট্রিসাইড ও মর্টিন কেনা হয়। যার মধ্য থেকে প্রতি ওয়ার্ডে ২০ লিটার করে সরবরাহ করা হয়। লার্ভিসাইড ১০ লিটার পানিতে ৫০ মিলিলিটার মিশিয়ে এবং ১০ লিটার করে অ্যাডালট্রিসাইড ও মর্টিন ফগার মেশিন দ্বারা প্রতি ওয়ার্ডে স্প্রে করা হয়েছে।

নগরীকে খুলনা ও খালিশপুর দুভাগে ভাগ করে তারা দুদফায় এ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। কেসিসির কাছে বর্তমানে মাত্র ৬০০ লিটার অ্যাডালট্রিসাইড ও মর্টিন এবং ১ হাজার লিটার লাইট ডিজেল মজুদ রয়েছে। যা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানাদি ও জেলখানায় জন্য ব্যবহার করবে।

এদিকে, কেসিসির কাছে চাহিদা মতো ফগার মেশিন ও ওষুধ না থাকার কারণে বর্তমান কেসিসির মশা নিধনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

কেসিসির সহকারী কঞ্জারভেন্সি অফিসার এস কে এম তাছাদুজ্জামান জানান, ২০০০ সালে ফগার মেশিন কেনা হয়েছিল। এরপর আর কোনো মেশিন কেনা হয়নি। চাহিদা অনুযায়ী আরও ৩৫টি ফগার মেশিন কেনার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া পিপিআর ও টেন্ডারের নিয়ম মানতে গিয়ে নানাবিধ সমস্যা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজার লিটার অ্যাডালট্রিসাইড ও মর্টিন এবং ৫ হাজার লিটার লাইট ডিজেল নেওয়ার ব্যাপারে ঠিকাদারকে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। ৩৫টি ফগার মেশিন ও ১০ হাজার লিটার অ্যাডালট্রিসাইড ও মর্টিন পেলে মশা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে, উপদ্রব কমে যাবে।

কেএফ