চট্টগ্রামে বকেয়া বেতনের দাবিতে বাড়ছে শ্রমিক অসন্তোষ

0
79
cepz clash
চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ। ফাইল ছবি
cepz-clash-33
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম নগরীতে তৈরি পোশাক কারখানগুলোতে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ বাড়ছে । গেল সাতদিনে ১০টি কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ ও ভাংচুর করে। মালিকপক্ষের আশ্বাসে এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা সাময়িকভাবে শান্ত থাকলেও দাবি পূরণের কার্যকরি পদক্ষেপ না নেওয়ায় আবারও অশান্ত হওয়ার আশংকা করছেন সংলিষ্টরা।

সংলিষ্ট থানা সূত্রে জানা যায়, গেল সাত দিনে চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা (সিইপিজেড) তিন নম্বর সড়কের এপিএস পার্ল লিমিটেড, ৪ নম্বর সেক্টরের মিথুন টেক্সটাইল অ্যান্ড ড্রাই লিমিটেড, ৫ নম্বর রোডের সী টেক্সটাইল লিমিটেডসহ ছয়টি পোশাক তৈরি কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করে। এসব ঘটনায় ভাংচুর সড়ক অবরোধসহ পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এছাড়াও , বন্দরটিলা এলাকার শাহ প্লাজা মার্কেটের নিউকন গার্মেন্টস, এইচকডি ইন্টারন্যাশনাল এবং  বায়জিদ থানার আতুরার ডিপো এলাকায় কে অ্যাপারেলস  ও কে ফ্যাশন নামে চারটি কারখানার শ্রমিকরাও একই দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ ও ভাংচুর করে।

এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের প্রতিটি  ঘটনায় পুলিশের সহায়তায় শ্রমিক- মালিকপক্ষের সাথে বৈঠকে সমঝোতা হয়।  পুলিশের মধ্যস্ততায় মালিকপক্ষ বারবার বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায়  বিভিন্ন  কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ লেগেই আছে।

সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সিইপিজেড বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক তৈরি কারখানা এপিএস পার্ল লিমিটেডের শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে। এসব শ্রমিকরা কারখানার অভ্যন্তরের বিভিন্ন অংশ ভাংচুর করে।
এর আগে মঙ্গলবার সিইপিজেডের মিঠুন টেক্সটাইল, সী টেক্সটাইল ও  বন্দরটিলা এলাকার শাহ প্লাজা মার্কেটের নিউকন গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে। পরবর্তী সময়ে পুলিশের  সহায়তায় মালিকপক্ষের সাথে বৈঠক শেষে কাজে ফিরে যায় কারখানা তিনটির শ্রমিকারা।
গেল রোববার বায়জিদ থানার আতুরার ডিপো এলাকায় কে অ্যাপারেলস  ও কে ফ্যাশন নামে দুটি পোশাক তৈরি কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে  দুপুর ১ থেকে ৪টা পর্যন্ত কয়েক দফা বিক্ষোভ করে। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে হাটহাজারী সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠি চার্জ করলে শ্রমিকদের সাথে সংঘর্ষ বাধে। এ ঘটনায় দুই পুলিশসহ ১০ জন শ্রমিক আহত হয়।

গেল শনিবারও সিইপিজেডে মিথুন টেক্সটাইল অ্যান্ড ডায়িং লিমিটেড  কারখানার ভেতর ও প্রবেশ পথে  উত্তেজিত শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মালিকপক্ষের সাথে কয়েক দফা বৈঠক করা হয়।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক জানান, তিনি গত তিন মাস কোনো বেতন পাচ্ছেন না। বেতন না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

আরেক শ্রমিক জানান, তাদের কারখানায় কোন বেতন কাঠামোতে বেতন দেওয়া হবে সে অজুহাতে গত দুই মাস বেতন হয় না। এই অবস্থায় তার দাবি আপতত যে কোনো নিয়মেই তাদের বেতন পরিশোধ করা হোক।

এদিকে মিথুন টেক্সটাইল অ্যান্ড ড্রাই লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ইপিজেড থানার উপ-পরিদর্শক উত্তম কুমার চক্রবর্তী জানান, কয়েকটি পোশাক তৈরি কারখানার শ্রমিকারা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

তিনি জানান, এর আগে বেশ কয়েকটি কারখানা বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও কেন যে তারা বা বাস্তবায়ন করছে না সেটা তার কাছে রহস্য। তবে শ্রমিকরা যদি সহিংসতা না করে তবে পুলিশ প্রশাসন এ ব্যপারে তাদের সাহায্য করতে পারে বলে জানান তিনি।

সুমন/এআর