রপ্তানি আয় বাড়াতে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে: শিল্পমন্ত্রী

0
62

amu-10.05.14রপ্তানি খাতে আরও প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য রপ্তানিপণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো পরামর্শ দিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। সেই সাথে তিনি ব্যবসায়ীদের নতুন নতুন রপ্তানির বাজার খুঁজে বের করার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত ‘আগামী দশকের জন্য শিল্পায়নের কৌশল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ সব কথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘রপ্তানি খাতে আয় বাড়াতে রপ্তানিপণ্যের বৈচিত্র বাড়ানোর বিকল্প নাই।কারণ একই পণ্য সব সময় রপ্তানি করে প্রবৃদ্ধির ধারা রক্ষা করা যাবে না।’

নতুন বাজার সন্ধানের বিষয়ে বলেন, ‘পণ্যের নতুন রপ্তানি বাজার খুঁজে বের করতে আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনারা জানেন, ইউরোপ ছাড়াও সার্কভূক্ত দেশ, আসিয়ান অঞ্চল, চীন ও জাপানে আমাদের পণ্য ক্রমেই শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। আঞ্চলিক বাণিজ্যের এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’

আর এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তিনি পরিকল্পিতভাবে শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার ব্যপারে গুরুত্বারোপ করেন।

আগামিতে বাংলাদেশের সামনে যে সম্ভাবনা রয়েছে তা বাস্তবায়নে সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি উল্লেখ করে জানান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শিল্প মন্ত্রণালয় বেসরকারি খাতের সাথে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে।

মনর্ত্রী জানান, প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশে শতকরা ৬ ভাগেরও বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন অব্যাহত রয়েছে। জনগণের মাথাপিছু আয় বেড়ে ১০৪৪ মার্কিন ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান ২৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। দেশে শিল্পখাতে শ্রমের অবদান প্রতিবছর শতকরা ৩ দশমিক ১৭ হারে বাড়ছে।

আর এই ধারাবাহিকতা থাকলে ২০১৫ সালের মধ্যে তা শতকরা ২৫ ভাগে উন্নীত হবে বলেও আশবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া চামড়া শিল্পখাতে বর্তমান রপ্তানি প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উলালেখ করে আগামি ১০ বছরের মধ্যে তা ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছানোর আশাবাদও প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

তবে এ সকল কিছু বাস্তবায়নে ও অর্থনীতির এ বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও অর্থনীতি গড়ে তোলা জরুরি বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

 এদিকে বিসিআই এর আজকের সভায় সংগঠনটির চেয়ারম্যান এ.কে. আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা  ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ ফরহাদ উদ্দিন বাংলাদেশ অ্যানার্জি রেগুলেটরি কমিশনের  চেয়ারম্যান এ.আর.খান, এফবিসিসিআই’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোয়ারা হাকিম আলী, সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীক নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।