চুরিকৃত অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রাহকরা

0
82
bracbank
ব্র্যাক ব্যাংক লোগো

bracbankঅ্যাকাউন্ট হ্যাকের মাধ্যমে চুরিকৃত অর্থ ফেরত দিচ্ছে না ব্র্যাক ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে টাকা ফেরত দিতে নির্দেশনা দেওয়ার পরও ফেরত না দিতে ব্যাংকটি ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা। তাদের দাবি, মামলা দায়েরের মাধ্যমে কৌশলে টাকা আটকে রাখতে চাইছে ব্যাংকটি।

গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে ব্র্যাক ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার অন্তত ৩০ জন গ্রাহকের ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের পাসওয়ার্ড চুরি করে অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়, যার মোট পরিমাণ ১৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। ব্যাংকটির চার-পাঁচজন গ্রাহক প্রথম এই জালিয়াতির ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে আনেন।

গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনার তদন্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস বিভাগের পরিদর্শনদল। তদন্ত প্রতিবেদনে, এ ঘটনার জন্য ব্যাংকটির অনলাইন প্রক্রিয়ার ত্রুটিকে দায়ী করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরবর্তীকালে এক চিঠিতে ব্র্যাক ব্যাংকের অনলাইন কার্যক্রমে সংস্কার আনার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ৩১ মার্চের মধ্যে গ্রাহকদের প্রাপ্ত অর্থ ফেরত দিতে সময় বেঁধে দেয়।

রাজি হোসেন খান নামের একজন গ্রাহক অর্থসূচককে জানান, ব্র্যাক ব্যাংক তার একাউন্ট থেকে খোয়া যাওয়া টাকা এখনো ফেরত দেয়নি। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবার অভিযোগ দাখিল করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বরাবর প্রেরিত ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতিবেদনে এই তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এ প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তের পর ব্র্যাক ব্যাংক থেকেও একটা তদন্ত করা হয়েছে। এ তদন্তে অ্যাকাউন্ট হ্যাকের পেছনে একটি জালিয়োতি চক্র জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর এ জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে পুনরায় তদন্ত করে এর সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা উচিত বলে মনে করছে ব্র্যাক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে গুলশান থানায় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে হাবিবুল্লাহ মেসবাহকে ৩১ হাজার ১৬০ টাকা, ওবায়দুর রহমানকে ২৫ হাজার টাকা, সত্য রঞ্জন শিকদারকে ৩৪ হাজার ৬০০ টাকা এবং ইমরান আলী চৌধুরীকে ২৮ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত দিয়েছে। হ্যাক হয়ে টাকা খোয়া চুরিকৃত অর্থ বাকি ২৬ জনের অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে। তবে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা এ টাকা তুলতে পারবেন না।

ক্ষতিগ্রস্তদের মতে, এর মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য কৌশলে নতুন এক সংকট তৈরি করেছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা গ্রাহকদের এই অভিযোগ সমর্থন করেছেন। তারা বলেন, আমরা ব্যাংকটির কাছে কোনো ব্যাখ্যা চায়নি। যেহেতু টাকা খোয়া যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে তাই তাদের টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি ব্যাংকটি এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের অবস্থান জানিয়েছে যা আমাদের কাম্য নয়। গ্রাহকদের হয়রানির বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এসব কর্মকর্তারা।

এসএই/এআর