রাসিকের বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে ধীরগতি, শতকোটি টাকা লোকসানের আশংকা

0
124
rasik

rasikরাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) বহুতল বাণিজিক ভবনগুলোর নির্মাণ কাজ থমকে গেছে। এতে করে শত কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়বে রাসিক।

সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে টেন্ডার হওয়া এ ভবনগুলোর নির্মাণ কাজ চলতি বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি অধিকাংশের। দু’তিনটির কাজ শুরু হলেও তাও বন্ধ রয়েছে। আর তাই যেসব বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণ কাজ এখনো শুরু হয় নি সেগুলোর পুনরায় টেন্ডারের প্রস্তুতি নিয়েছে রাসিক। সময় মতো ভবনগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় এবং পুনরায় টেন্ডারের কারণে প্রায় ১০০ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়বে রাসিক।

রাসিক ২০১১ সালের শেষের দিকে একটি ক্লিনিক ও ৭টি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করার উদ্যেগ নেয়। ২০১৪ সালের মধ্যে কাজগুলো শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ওই ভবনগুলো নির্মণের কোনো অগ্রগতি নেই। চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে কাজগুলো শেষ করা কথা থাকলেও ২০১৪ সালের মাঝামাঝিতে এসেও বেশিরভাগের নির্মাণ কাজ এখনো শুরু হয় নি।

জানা গেছে, নগরীর লক্ষ্মীপুরে ৮ দশমিক ৯০ কাঠা জমির উপরে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ তলা বিশিষ্ট সিটি হেলথ ক্লিনিক ও সাহেব বাজারে ৩ দশমিক ১২ কাঠা জমির ওপরে ২ দশমিক ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ তলা বিশিষ্ট বৈশাখী বাজার নির্মাণ করবে শামসুজ্জামান জেভি ও আলম কনস্ট্রাকশন।

আরডিএ মার্কেটের পার্শ্বে ৬ দশমিক ৪ কাঠা জমির ওপরে ৩ দশমিক ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ তলা বিশিষ্ট শাপলা সুপার মার্কেট ও শালবাগানে ৪৭ দশমিক ৫৯ কাঠা জমির উপরে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ তলা শালবন সুপার মার্কেট নির্মাণ করবে মেসার্স কবির হোসেন।

হড়গ্রাম বাজারে ২০ কাঠা জমির উপরে নির্মিত দ্বিতল বাজারের তৃতীয় তলা ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ ও সিটি বাইপাসের পার্শ্বে ৪৫ দশমিক ৭৪ কাঠা জমির উপর ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ তলা বাইপাশ সুপার মার্কেট এবং নওদাপাড়ায় ৪৫ দশমিক ৪৫ কাঠা জমির উপর ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ তলা চৈতালী সুপার মার্কেট নির্মাণ করবে জহির এন্টারপ্রাইজ।

নিউ বিলসিমলায় রেলওয়ে ক্রসিংয়ের নিকট ৩ দশমিক ৫৫ কাঠা জমির উপর ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ তলা বিশিষ্ট সিমলা সুপার মার্কেট নির্মাণ করবে এসবি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন। এছাড়াও ভদ্রায় একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করার জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল।

টেন্ডার দেওয়া ভবনগুলোর বেশির ভাগের কাজ এখনো শুরু হয় নি। আর সময়মতো এসবের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় শতকোটি টাকা লোকশানের মুখে পড়েছে রাসিক।  দক্ষ-অদক্ষ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বিবেচনা না করেই কাজগুলো দিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে রাসিকের একটি সূত্র জানায়। সে কারণে বেশিরভাগ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কাজ শুরু হয় নি। কেউ বা অর্থের অভাবে কাজ শুরু করতে পারছেন না।

এ বিষয়ে রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক জানান, কিছুক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে রাসিক তার জায়গাসহ বিভিন্ন জিনিস নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দিতে দেরি করছিল। এ কারণে কয়েকটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ শুরু করতে দেরি করেছিল।

তিনি আরও জানান, সময়মতো কাজ শেষ করতে পারলে ভাল হতো। এতে রাসিক লাভবান হতো। কিন্তু কাজগুলো শেষ না হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছে রাসিক। যেসব নির্মাণ প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ করতে না পারবে তাদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে যে কয়টি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে নওদাপাড়ায় ৪৫ দশমিক ৪৫ কাঠা জমির উপর ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ তলা বিশিষ্ট চৈতালি সুপার মার্কেট নির্মাণ করার কথা ছিল জহির এন্টারপ্রাইজ নামে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের। জহির এন্টারপ্রাইজ কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এছাড়া, ভদ্রায় যে বহুতল ভবন নির্মানের কথা ছিল তাও বন্ধ আছে। ওই দুইটি ভবন আবার নতুন করে টেন্ডার দেওয়া হবে বলে ঠিক করা হয়েছে। এছাড়াও অন্য যেসব নির্মাণ প্রতিষ্ঠন আমাদের মধ্যে অযোগ্য মনে হবে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানান প্রকৌশলী আশরাফুল হক।