বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনে চার বাধা

0
57
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।

wb-jahidচলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে যখন মোট দেশজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হয় তখনই নানা সংস্থা ও ব্যক্তি পর্যায় থেকে এ ব্যপারে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকের মতো সংস্থাগুলো থেকে বলা হয় এই পরিমান প্রবৃদ্ধি অর্জন করা এখনই বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। সে সময় অবশ্য দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকেই এর প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখায় সংস্থাগুলো।

তবে আজ বুধবার বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রগতি বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংক  বাংলাদেশের কাঙ্খিত জিডিপি-এর ক্ষেত্রে চারটি বাঁধা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

সংস্থাটির মতে, পোশাক খাতের পর্যাপ্ত কমপ্লাইন সুবিধা না থাকা, বিদেশের শ্রম বাজার সংকুচিত হওয়া, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং পুনরায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ফিরে আসার আশঙ্কা  জিডিপির  লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার জন্য দায়ি।

বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশ অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হুসাইন বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি নিম্নমুখী ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে গত বছরের অক্টোবর থেকে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে তার প্রভাব এদেশের অর্থনীতিতে মারাত্নকভাবে পড়বে। আমরা মনে করি এবছর অর্থনৈতিক কিছু ঝুকিঁর কারণে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে দেশটি। এ ঝুকিঁগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পোশাক খাতের কমপ্লাইন সুবিধা। এ খাতের উন্নয়নের জন্য যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে (যেমন বিল্ডিংয়ের উন্নয়ন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও অধিকার নিশ্চিত করা ইত্যাদি) যদি সেগুলো পূরণ করা না হয় তাহলে ইউরোপের বাজারে দেশটির জিএসপি সুবিধা বাতিল হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ যেসব দেশে শ্রম ও জনশক্তি রপ্তানি করে থাকে সেটি এখন পজেটিভ ধারায় চলছে। এর কারণ বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রবণতা বাড়ছে। মন্দা কাটিয়ে এখন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে এসব দেশ। তাই বাংলাদেশ যদি এ ধারায় চলতে না পারে তাহলে দেশের রেমিটেন্সসহ অর্থনীতিতে একটা প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো কাঙ্খিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। তাছাড়া এ কারণে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। আবার সুদহারও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমাতে পারেনি  প্রতিষ্ঠানগুলো। এর ফলে অর্থনীতিতে একটা বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি জানান।

সর্বশেষে গত কয়েকমাসে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল বিভিন্ন কারণে তা আবার ফিরে আসতে পারে বলে তিনি মনে করেন। আর তার মতে,  এমন পরিস্থিতি যদি আবার ফিরে আসে তাহলে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে বিদ্যুৎ সরবরাহের দিক দিয়ে বাংলাদেশ ১৪৮ টি দেশের মধ্যে ১৩৩ তম অবস্থানে আছে। দেশের মাত্র ৬২ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করছে।  আর ৩০ শতাংশ মানুষের এখনও বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এ খাতে কাঙ্খিত সাফল্য অর্জিত হচ্ছে না বলে বিশ্বব্যাংক মনে করছে। এর কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাংক মনে করছে বুড়ো বা বয়স্ক প্লান্ট দিয়ে এখনও কাজ করা হচ্ছে এতে বিদ্যুতের সিস্টেম লস বেশি হচ্ছে।

গ্যাস সরবরাহ ভালো না থাকায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে বলে তারা মন্তব্য করেছে। এক্ষেত্রে বিদ্যুতের বাজার সৃষ্টির পাশাপশি মূল্য নির্ধারনের জন্য নতুন নীতিমালা করার প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি।

 এসএই/