‘সরকারের নতজানু মনোভাবই তিস্তার পানি থেকে দেশকে বঞ্চিত করছে’

0
69
tista
তিস্তার ছবি। ফাইল ছবি
tista-r
বাংলাদেশের প্রবেশের মুখেই এভাবে শুকিয়ে মরছে তিস্তা। পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য পাওনা দিতে অস্বীকার করলে ঝুলে যায় চুক্তি। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পরেছে নদীটির জীবন…

ভারতের প্রতি সরকারের নতজানু মনোভাবের কারণেই তিস্তাসহ অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। তাই সকল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পেতে ভারতের ওপর চাপ বাড়াতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা।

বুধবার ঢাকা তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখী গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার্ রোডমার্চের দ্বিতীয় দিনে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সমাবেশে বক্তারা এ দাবি জানান।

গোবিন্দগঞ্জের সমাবেশে বাম মোর্চার প্রধান সমন্বয়ক  আব্দুস সাত্তার বলেন, সরকার ভারতের সঙ্গে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি মেনে চলছে। আর এই কারণেই এখনও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আমরা পাচ্ছি না।

এই অবস্থায় তিনি সরকারকে স্বাধীন অবস্থান থেকে জোরালো কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার জন্য আহ্বান জানান। এছাড়া জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সংস্থায় তিস্তার পানি বণ্টনের সমস্যাটি তুলে ধরার দাবি জানান তিনি।

উত্তরাঞ্চলের আলু চাষিদের সাম্প্রতিক সময়ের বির্পযয় কাটিয়ে উঠতে তিনি চাষিদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের নামার আহ্বান জানান।

বাম মোর্চার আরেক সমন্বয়ক ও গণসংহতির নেতা জোনায়েদ সাকি নদী রক্ষার আন্দোলনে ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এদিকে বাংলাদেশে ইউনাইটেড কমিউনিস্ট পার্টির নেতা অনুপ কুণ্ডু অর্থসূচককে জানান, রোডমার্চের দ্বিতীয় দিনে জেলার কয়েকটি জায়গায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।এসময় পথসভায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিলো সন্তোষজনক। অনুপ কুণ্ডু জানান, উপস্থিত জনগণের মধ্যে এ সময় প্রচারপত্র বিলি করা হয়।

সাধারণ মানুষও মিছিলে ভারতের স্বার্থে নতজানু পররাষ্ট্র নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার তিস্তা নদী থেকে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার বন্ধ ও অভিন্ন সব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবিতে শুরু হয়েছে রোড মার্চ কর্মসূচি।

গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার উদ্যোগে ‘তিস্তা বাঁচাও-কৃষি ও কৃষক বাঁচাও-দেশ বাঁচাও’  শ্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে রোডমার্চটি  শুরু হয়। এটি ১০ এপ্রিল লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার ডালিয়া পয়েন্টে শেষ হবে।

প্রসঙ্গত ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে তিস্তা চুক্তিটি সই হওয়ার কথা থাকলেও সে সময় পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যয় এর বিরোধীতার কারণে তা হয়ে ওঠেনি। এর পর দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বেশ কয়েক দফা পারস্পারিক সফর হলেও তিস্তার বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি।

যৌথ নদী কমিশনের তথ্যমতে, তিস্তার নদীর এখনকার পানি প্রবাহ অস্বাভাবিক কম। কমিশনের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে ১৯৭৩ থেকে ৮৫ সাল পর্যন্ত দুই দেশে ব্যারেজ নির্মাণের আগে পানির যে প্রকৃতিক প্রবাহ ছিলো তা আর নেই।

কমিশনের হিসাবে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পানি প্রবাহ ছিল পাঁচ হাজার কিউসেক।এ বছর ফেব্রুয়ারিতে সেই পানি পাঁচশ কিউসেকে নেমে এসেছে। এর আগের বছর পানির প্রবাহ ছিলো আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার কিউসেক। অথচ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ কমপক্ষে পাঁচ হাজার কিউসেক পানির দাবিদার।