লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক: বিশ্বব্যাংক

0
73

wb-1বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারলেও বছর শেষে যা অর্জন করবে সেটি হবে সন্তোষজনক। সংস্থাটির মতে, চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ৫ দশমিক ৪ শতাংশ হবে। আর এই পরিমাণ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সন্তোষজনক বলেও মনে করে সংস্থাটি।

দ্য বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট শীর্ষক এক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে এমন আভাস দিয়েছে সংস্থাটি। বুধবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকাস্থ কার্যালয়ে এক সংবাদসম্মেলনে মাধ্যমে প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন সংস্থাটির বাংলাদেশের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসাইন।

জাহিদ হোসাইন জানান, বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশের তুলনায় ভালো প্রবৃদ্ধি  অর্জন করবে।

তবে বিশ্বব্যাংক মনে করে এই শিল্পখাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবারাহ নিশ্চিত করাসহ কিছু ক্ষেত্রে ঢেলে সাজানো হলে আগামিতে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে।

প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সামষ্টিক প্রবৃদ্ধি যেখানে হবে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ৪ হওয়া সন্তোষজনক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে ভারত ৪ দশমিক ৮ শতাংশ ,পাকিস্তান ৩ দশমিক ৮ শতাংশ , নেপাল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। তবে একমাত্র শ্রীলংকা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের বাজেটে দেশের জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৭ দশমিক ২ শতাংশ। তবে  রাজনৈতিক অস্থিরতা, কম রেমিটেন্স আসাসহ বেশ কিছু কারণে চলতি অর্থবছরে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়।

এদিকে গত জানুয়ারি মাসে বিশ্বব্যাংক গ্লোবাল ইকনোমিক প্রসপেক্টস শিরোনামের প্রতিবেদনে জানায়, চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ করা হলেও বিশ্বব্যাংকের হিসেবে এটি থাকবে ৬ শতাংশের নিচে। বছর শেষে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৫ দশিমক ৭ শতাংশ।

সে সময় সংস্থাটি জানায়, আগামি দুই বছরেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হার ৭ শতাংশ ছুঁতে পারবে না। সংস্থাটির মতে, আগামি দুই বছরে যথাক্রমে ৬ দশিমক ১ ও ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।

অবশ্য সে সময়ও বলা হয় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয় সর্বোচ্চ।

ওই প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়, এ বছর বিশ্ব অর্থনীতি তার মন্দাদশা কাটিয়ে উঠতে পারে। ইউরোপ ও আমেরিকার মত উন্নত অর্থনীতিও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ হয়তো তার সুফল পাবে না।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অঞ্চলের দেশগুলোর মূল ঝুঁকিগুলো হলো আর্থিক ও নীতি সংস্কার থেকে সরে যাওয়া, বাংলাদেশ, ভারত ও আফগানিস্তানে নির্বাচনকেন্দ্রিক অনিশ্চয়তা, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপ।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বিশ্ববাণিজ্য বাড়বে। আগামি দুই বছর এই হার ৫ দশমিক ১ শতাংশ হবে।