বাজারে ইলিশের হালি ৮০০০ টাকা!

0
123
elish

elishবৈশাখকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া বাঙালি সংস্কৃতির এক পুরোনো ঐতিহ্য। আর এদিন পান্তা-ইলিশ না খেলে যেন সেই আনুষ্ঠানিকতা অপূর্ণই রয়ে যায়। তাইতো প্রতিবছর এ দিনটি আসার ১৫ দিন আগে থেকেই  বাড়তে থাকে ইলিশের দাম। এবারও এর ব্যতিক্রম কিছু ঘটেনি। বৈশাখের ৫ দিন বাকি থাকতেই বাজারে এখন এর দাম ৮ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে।

এদিকে,  হুহু করে দাম বাড়তে থাকায় সপ্তাহ খানেক আগেই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির নাগালের বাইরে চলে গেছে এ মাছটি। বাজারে সাজানো এ মাছগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার নেই সাধারণ ক্রেতাদের।

রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে দেখা গেছে, ১ কেজি বা তার চেয়ে একটু বেশি ওজনের এক হালি ইলিশের দাম হাঁকাচ্ছেন ৮ হাজার টাকা। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের হালি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা।

এখন সব বাজারে এভাবেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পাইকারি বাজারে মিলছে না ইলিশ। এছাড়া, বৈশাখকে কেন্দ্র করে অতিমুনাফা লাভের আশায় মজুদ করা হচ্ছে এই মাছ।

তবে কিছুদিন আগে কারওয়ান বাজারের ভোলা-বরিশাল মৎস্য সমিতি অফিসের পরিচালক জহিরুল ইসলাম বলেছিলেন, এ বছর মৌসুমে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। তখন ইলিশের মজুদ রাখা হয়েছে বৈশাখের জন্য। তাই আশা করছি এই বৈশাখে বাড়বে না ইলিশের দাম। কিন্তু  বাজারে দেখা গেল তার সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র।

তবে কারওরান বাজার পাঁচতারা সমন্বয় মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, মাছের মজুদ মোটামুটি থাকলেও গত বছর অনেক মৎস্য ব্যবসায়ী মাছ মজুদ করে লোকসান গুণেছিল তাই অনেকে এ বছর তেমন মজুদ করেনি।

তিনি আরও বলেন, পয়লা বৈশাখের কারণে এ সময়টায় বরাবরই বাজারে ইলিশের চাহিদা ও মূল্য দুটোই বেশি থাকে। পান্তা ভাত ও ইলিশ মাছ এখন বাঙালি সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে সুবাদে ইলিশ মাছ নিয়ে মৎস্য ব্যবসায়ীদের চলছে নানা ব্যবসায়ী কৌশল। আর তারই অংশ হিসেবে এই মাছ মজুদ করা শুরু হয়ে গেছে। অতিমুনাফা লোভের আশায় মৎস্য ব্যবসায়ীরা কোল্ডস্টোরেজ কিংবা  ফ্রিজে রেখেছে এ মাছ আর বাজারে ছাড়ছে অল্প অল্প করে। এসব কারণেই বাড়তে শুরু করেছে ইলিশ মাছের দাম।

এদিকে ক্রেতাদের আশঙ্কা, এ বছর না-জানি কতো হাজার টাকা হয় এই ইলিশের দাম।

এসএস/কেএফ