নিরাপদ শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ে অর্ডার দিতে অ্যাকর্ডের প্রতি বিজিএমইএ’র আহ্বান

0
63

Garments_Workerঅবকাঠামোগত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো সমস্যা না থাকলে শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ে থাকা (একই ভবনে একাধিক কারখানা) গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে পোশাকের আর্ডার দিতে অ্যাকর্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ। সেই সঙ্গে কারখানা পরিদর্শনে একটা নির্দিষ্ট গাইডলাইন অনুসরণের তাগিদ দিয়েছে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের এ সংগঠন।

মঙ্গলবার দুপুরে সংগঠনটির কার্যালয়ে কারখানার অগ্নি, বিদ্যুৎ ও ভবন নিরাপত্তা নিয়ে ইউরোপভিত্তিক পোশাক ক্রেতাদের সংগঠন অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় এই আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

সভায় কারখানা পরিদর্শনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা যায়।

উল্লেখ, রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার পর বিভিন্ন ক্রেতা প্রতিষ্ঠান শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ে অবস্থিত কারখানা থেকে পোশাক না কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে কারখানাগুলো মারাত্মক সংকটে পড়ে। ইতোমধ্যে এ ধরণের বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

এই বিষয়ে সংগঠনটির সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম বলেন, অবকাঠামোগত সমস্যা না থাকলে অন্য শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ে কাজ দিতে অ্যাকর্ডের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। যাতে এই কারখানাগুলো টিকে থাকতে পারে। তিনি বলেন, শেয়ার্ড বিল্ডিং থেকে কারখানা স্থানান্তর করা হবে। তবে এটা করতে মালিকদের সময় দিতে হবে। এটা রাতারাতি করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।

তবে অ্যাকর্ড মালিকদের জানিয়েছে, কাজ দেওয়া না দেওয়ার বিষয়টি ক্রেতাদের ওপর নির্ভর করে। সে ক্ষেত্রে অ্যাকর্ডের পক্ষ থেকে কারখানা পরিদর্শনের প্রকৃত রিপোর্ট দেওয়া হবে বলে বিজিএমইএকে নিশ্চিত করেছে ক্রেতা জোটটি।

আবারো বিজিএমইএর পক্ষ থেকে অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটিতে রাখার জন্য দাবি জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, অ্যাকর্ডের পরিদর্শনে মালিকদের আস্থার অভাব রয়েছে। যদি মালিকদের স্টিয়ারিং কমিটিতে রাখতো তাহলে আস্থার এই ঘাটতি থাকতো না। বহু সমস্যা আলোচনার টেবিলে সমাধান করা যেত। আর এটা না হওয়ায় এই এমন অবস্থা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

স্প্রিংলার্ক, ফায়ার ডোর-সহ অন্যান্য নিরাপত্তা সামগ্রীর বিষয়ে তিনি বলেন, কারখানায় ব্যবহৃত নিরাপত্তা সামগ্রী সবই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে। যার কোনোটি দেশিও সামগ্রী নয়। তাই এটা করার জন্য কারখানা মালিকদের সময় দিতে হবে।

তাছাড়া মালিকরা জোটটির কাছে কারখানা পরিদর্শনের জন্য একটি সঠিক প্যারামিটারের কথা বলেন। যার মাধ্যমে মালিকরা একটি সঠিক মাপকাঠি পেতে পারে। সামান্য ত্রুটিতে কোনো কারখানা বন্ধ হতে পারে না। তবে কারখানা বন্ধের আগে রিভিউ কমিটির কার্যকরি পদক্ষেপ থাকতে হবে বলে মনে করেন মালিকরা।

এছাড়া সংগঠনটির পক্ষ থেকে কারখানা স্থানান্তরে আর্থিক সহায়তা সম্বলিত পরিকল্পনার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। যাতে ওই সময়ে শ্রমিকদের বেতনসহ অন্যান্য সামস্যার সমাধান করা যেতে পারে।

আলোচনা সভায় সংগঠনটির সভাপতি আতিকুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি আব্দস সালাম মুর্শেদী, ইন্ডেটেক্সের অ্যালেক্স বাসকোয়েটস গঞ্জালেক্স, সিঅ্যান্ডএ’র ফিলিপ চেম্বারলিন, এইচ অ্যান্ডএমএ’র জেনি ফ্যাগারলিন, ডিলেনহার্মের লিজা ফেয়ার ক্লফ, ইন্ডাস্ট্রি অলের মনিকা কেম্পারলি ও জেনি হোল্ডক্রফ, ইউনি গ্লোবালের  ক্রিস্টি হফম্যান ও বেন ভন পেপারস্ট্রিট, অ্যাকর্ডের ব্র্যড লোয়েন, অ্যালান রবার্ট, রব ওয়েসেস, অ্যান্ডি ইয়র্ক এন ব্রাউন, টাটিয়ানা ডিলেই-সহ বিজিএমইএ পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসইউএম/সাকি