মায়ার টানে কপোতাক্ষ

0
118

kapotakh-nodঅনেকদিন ধরেই ভাবছি – কিছু একটা লিখি। না লিখলে নাকি সাংবাদিকতার পূর্ণতা আসেনা। তাছাড়া পাঠকের সাথে নিজের যোগাযোগটাও বাড়ানোর জন্য নাকি লেখালেখির দরকার। সেই ভাবনায়  মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে অনেক বিষয় । কিন্তু সর্বশেষ ঠিক করলাম লিখি মায়ার টান নিয়ে। এর পেছনের কারনও রয়েছে। কারণটা বেশি কিছু নয় । ইদানিং বোধহয় কপোতাক্ষের প্রতি টানটা একটু বেড়েই গেছে। তাই তো ঠিক করলাম তাকে নিয়ে কিছু জল্পনা- কল্পনা করা যায়, কিছু স্বপ্নও দেখা যায়। এই তো সেদিনের কথা । ঘুরে এলাম কপোতাক্ষ থেকে । তবু মন ভরে না।

নির্জন এক নদী। সারাদিন এলোচুলে পা ছড়িয়ে বসে মৃত্যুর করুণ গান গায়। চারিদিকে নিস্তব্দ এক উপত্যকা, দু’ধারে  সবুজের দেয়াল উঠে গেছে আকাশে। এই বিরলে শুধু মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাসের মতো হু-হু বাতাস বয়ে যায়।কখন জানি নি:শেষ হয়ে যায় তার প্রাণ। অজস্র সাদা সাদা বক। ছোঁ মেরে মাছটাকে তুলে নিয়ে আকাশে উড়ে। যার নাম কপোতাক্ষ। যেটি ঠাই নিয়েছিল মাইকেলের জীবন তুলিতে। তার ভাষ্যে,

 ‘সতত হে নদ, তুমি পড় মোর মনে।
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।’

ইন্টারনেট থেকে ধার করে একটি গল্প বলি। যেটি এরকম- এক আগন্তুক বাংলার কোনো এক গাঁয়ে গিয়ে এক লোকের কাছে জানতে চাইলেন, এখানে কপোতাক্ষ নদ কোথায়। লোকটি আগন্তুককে বললেন, যে নদীতে দেখবেন কোনো পালতোলা নৌকা চলে না, ধরে নেবেন সেটাই কপোতাক্ষ নদ।’

আজ এমনই হয়েছে কপোতাক্ষের অবস্থা। মুনীর চৌধূরী তার রক্তান্ত প্রান্তরে লিখেছিলেন, মানুষ মরে গেলে পঁচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায়। মাইকেল মরে গিয়ে বেঁচে আছে। আর বেঁচে আছে তার কপোতাক্ষ। তাইতো মাইকেলের আর বদল নেই্। নেই  দুর পরবাসে যেয়ে বিদেশি শেখার নেশা।তবে বদলেছে কপোতাক্ষ্। কারণে অকারণে বদলেছে তার চেহারা। কখনও হয়ে চলেছে পানি শুকিয়ে ডাঙ্গার মাঠ। কখনওবা পানির ব্যপ্তিতে উপচে ওঠেছে দুই ধারের গ্রাম। আবার কখনও পানির ওপরে স্তর পড়েছে ঘন শেওলার। পরিণতি শুধু করুণ আর করুণ। সেও কি মাইকেলের মতো বিদায় নেবে? নাকি পরিণত হবে দুই ধারের মানুষের ক্ষেত খামারে।

এই নদীকে আমি খুব চিনি, ওর আদলে গড়া যে জীবন তাকে বয়ে চলার ব্যাথাও আমি জানি। মনে আছে সেদিনকার কথা। যেদিন চাকলা থেকে খোর্দের ওপারে যাওয়ার জন্য নদীর বানে ভয় পেয়েছিলাম্। ছোট্ট বাশের সাঁকোর ওপর ওঠে ভয়ে সাকোটির ওপরই হামাগড়ি দিয়েছিলাম। খরবেগে চলে গিয়েছিল সেই পানির স্রোত।

মনে আছে সেসময়কার কথা- যখন নদীর চরে রাখাল বেশে গরু নিয়ে যেতাম শুধু একটুখানি কপোতাক্ষের ছিন্নপানিতে স্নান করতে । সেই দিন আর কবে আসবে? কবে কপোতাক্ষের বুকে পাল তোলা নৌকা চলবে, কবে আসবে বান। কবে খরস্রোতা নদীর পানিতে পা দুলিয়ে জন্ম নেবে নতুন মাইকেল। আমরা চেয়ে থাকি সেই অপেক্ষায়…… ।

সাংবাদিক, অর্থসূচক ডট কম