শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচার দাবিতে কুবি শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন

0
68
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের  (কুবি) নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকের সাথে এক কর্মকর্তার অসদাচরনের জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষক সমিতি ক্লাস বর্জন করেছেন।

আগামি ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করবে শিক্ষকদের এ সংগঠনটি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা চলবে। শিক্ষক সমিতির এক জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৬ এপ্রিলের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ১৭ এপ্রিলের পর কঠোর কর্মসূচী দেওয়া হবে বলেও জানায় শিক্ষক সমিতি।

জানা যায়, ২৩ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন বরণ অনুষ্ঠানের পর মধ্যাহ্নভোজের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার মো. জাকির হোসেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো.  আব্দুর রহমানের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। ওই শিক্ষককে দেখে নেওয়ার  হুমকি দেন বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।

পরদিন শিক্ষকরা উপাচার্য ড. মো. আলী আশরাফকে অবহিত করলে উপাচার্য জাকির হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। কারণ দর্শানোর নোটিশের পর সেকশন অফিসার মো. জাকির হোসেনও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপাচার্যের কাছে অভিযোগ করেন। বিচারের দাবিতে ১ এপ্রিল ক্যাস্পাসে শিক্ষকরা মৌন মিছিল করেন।

এদিকে  এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির ছায়াদউল্লাহ খানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিকে দশ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে উপাচার্য জানান।

অভিযোগের বিষয়ে মো. জাকির হোসেন বলেন, আমি অসদাচরণ করিনি। ঐ শিক্ষকের সাথে আমার ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে মাত্র।

অভিযোগকারী শিক্ষক মো. আব্দুর রহমান বলেন, শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে আমি বিষয়টি উপাচার্য মহোদয়কে জানিয়েছি। শিক্ষক সমিতি এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে তার বিচার দাবি করছি। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.মো. আলী আশরাফ বলেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে একটি কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে তদন্ত চলাকালীন সময়ে শিক্ষকদের এরকম কর্মসূচি একাডেমিক কার্যক্রমকে ব্যহত করছে।

আরএম/সাকি