পুঁজিবাজারের জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ চায় বিএমবিএ

0
73
বিএমবিএ bmba

বিএমবিএ bmbaপুঁজিবাজারের জন্য আগামি অর্থবছরের (২০১৪-১৫) বাজেটে ১৫ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ চেয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। আর সহজ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএমবিএ’র সমন্বয়ের মাধ্যমে এ অর্থ বিতরণের প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সংগঠনের ১৮তম সাধারণ সভা থেকে এ দাবি জানানো হয়।

বিএমবিএর’র মুখপাত্র ও সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন সান্ন্যামাত বলেন, অনেক জটিলতার কারণে পুঁজিবাজারের প্রণোদনা প্যাকেজ কোনো কাজে আসছে না। এ তহবিলের টাকা বিএমবিএকে সরাসরি বিতরণ করার সুযোগ দেওয়া হলে এমন সমস্যা হতো না। তাই প্রস্তাবিত থোক বরাদ্দ ব্যবহারের ক্ষমতা বিএমবিএকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো বিনিয়োগকারীকে ঋণ পেতে হলে ১৭ থেকে ১৭ শতাংশ সুদ দিতে হয়। বিএমবিএকে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি ৫ শতাংশ হারে ঋণ দেয়, তাহলে তারা ৭ থেকে ৮ শতাংশ হারে বিনিয়োগকারীদের হাতে এ ঋনের টাকা তুলে দিতে পারবে। এতে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।

করের যে স্তর রয়েছে, তা সংশোধন করার বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যবসাবান্ধব কর স্তর করা জরুরী। পুঁজিবাজার বর্তমানে দ্বৈত করের শিকার। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারচেয়েও বেশি।

তিনি বলেন, বিধি অনুসারে তালিকাভুক্ত প্রত্যেক কোম্পানিকে তার মুনাফার উপর কর দিতে হয়। আবার ওই মুনাফার ভিত্তিতে বিতরণ করা লভ্যাংশ থেকে কেটে রাখা হয় ১০ শতাংশ উৎসে কর। অর্থাৎ একই আয়ের উপর কর দিতে হয় দুই বার। যেসব বিনিয়োগকারীর আয় করযোগ্য তারা কেটে রাখা কর তার সামগ্রিক করের সঙ্গে সমন্বয় করার সুযোগ পান। কিন্তু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যাদের আয় করযোগ্য নয়, তারা কেটে রাখা কর সমন্বয়ের সুযোগ পান না। আবার তা ফেরতও পান না।

অন্যদিকে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য প্রতিষ্ঠানও (বর্তমানে ট্রেকহোল্ডার) কর বৈষম্যের শিকার। আগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান ব্রোকারেজ হাউসগুলো আগে লিমিটেড কোম্পানি ছিল না। কিন্তু ২০০৬ সালে লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে কোনও কোনও ক্ষেত্রে ডাবল, ট্রিপল ট্যাক্স দিতে হচ্ছে।

আগে ডিএসইর সদস্য প্রতিষ্ঠান ব্রোকারেজ হাউসগুলো মুনাফার ২৫ শতাংশ কর দিয়েই মুনাফার বাকি অর্থ খরচের অধিকার পেতেন। অর্থাৎ কোনও ব্রোকারেজ হাউস যদি এক কোটি টাকা মুনাফা করে,তাহলে ২৫ শতাংশ কর পরিশোধ করে ৭৫ লাখ টাকা খরচ করতে পারতেন। কিন্তু ব্রোকারেজ হাউসকে লিমিটেড কোম্পানি করায় তাকে আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি কর পরিশোধ করতে হচ্ছে। অর্থাৎ এক কোটি টাকা মুনাফা হলে প্রথমে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হচ্ছে। এরপর সে ওই টাকা খরচ করতে পারে না। খরচের অধিকার পেতে লভ্যাংশ ঘোষণা করতে হচ্ছে। আবার ঘোষিত লভ্যাংশের ওপর ১০ শতাংশ সোর্স ট্যাক্স কেটে রাখা হয়। এরপর ১৫ শতাংশ ফাইনাল ট্যাক্স দিতে হয়। এতে লিমিটেড কোম্পানির মোট ৪৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকার স্বত্ত্বাধিকারী হয়। এখানেই বৈষম্য থাকছে ২৮ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ এক্ষেত্রে লিমিটেড কোম্পানিকে ডাবল ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ তাকে ৫৩ দশমিক ১২৫ কর পরিশোধ করতে হয়। অথচ লিমিটেড কোম্পানি করার আগে এসব ব্রোকারেজ হাউস মাত্র ২৫ শতাংশ কর দিত। কিন্তু লিমিটেড করায় তাকে দ্বিগুণের বেশি কর দিতে হচ্ছে।

অন্যদিকে ব্যাংক ব্রেকারেজ হাউসের ক্ষেত্রে এ বৈষম্য আরও বেশি। ব্যাংকভিত্তিক ব্রোকারেজ হাউসকে ট্রিপল ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। কেননা,ব্যাংক সরাসরি ব্রোকারেজ হাউস পরিচালনা করতে পারে না। তাকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি করতে হয়। এখানেও বাধ্যবাধকা আরোপ করা হয়েছে। ফলে তৃতীয় ধাপে কর দিতে হয়। ফলে ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউসকে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হচ্ছে।

কোনো ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি যদি এক কোটি টাকা মুনাফা করে প্রথমে তাকে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে কর পরিশোধ করতে হয়। এরপর ব্যাংক ২০ শতাংশ হারে কর দিয়ে খরচের অধিকার পায়। কিন্তু ব্যক্তি পর্যায়ে যেতে আরও ১০ শতাংশ উৎসে আয়কর এবং ১৫ শতাংশ চুড়ান্ত কর পরিশোধ করতে হয়। সেক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে মোট খরচের অধিকার পায় ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে কোম্পানির গেইনের ওপর ট্যাক্স নেই। কিন্তু লভ্যাংশের ওপর ১০ শতাংশ উৎসে কর এবং ১৫ শতাংশ চুড়ান্ত কর দিতে হচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারী শেয়ার ধরে না রেখে বিক্রি করে গেইন করছেন। এতে পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আস্থা বাড়ানোর বিষয়ে বিএমবিএ সভাপতি তানজিল চৌধুরী বলেন, বাজারের এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কিশনের (বিএসইসি) সমন্বয় জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো প্রজ্ঞাপন জারির আগে যেন বিএসইসিকে অবহিত করা হয়। তাহলে পুঁজিবাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন কোনো কিছু করা উচিত নয়, যা পুঁজিবাজারের জন্য নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তিনি বলেন, ট্রেড ভলিউম বৃদ্ধির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরানো সম্ভব। এটি করতে হলে বিনিয়োগকারীদের কাছে বাজারটিকে আরও সুন্দর ভাবে তুলে ধরতে হবে। এটির জন্য প্রয়োজন অনেক বেশি শাখা। শাখা হলে আরও বেশি করে বিনিয়োগকারীদের সংশ্লিষ্ট করা যাবে।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) প্রিমিয়ামের বিষয়ে তানজিল চৌধুরী বলেন, ভালো কোম্পানিকে বাজারে আনতে হলে প্রিমিয়াম জরুরি। প্রিমিয়াম না দিলে ভালো কোম্পানি বাজারে আসবে না।

এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক ও আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, যারা প্রিমিয়াম নিয়ে কথা বলেন তারা সেকেন্ডারিরর বিনিয়োগকারী না। তারা শুধু আইপিও করেন। এরা লাভ করে বাজার থেকে টাকা নিয়ে চলে যান । তাই তারা এটি নিয়ে কথা বলেন। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ভালো কোম্পানি বাজারে আসা জরুরি বলে মত দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির কোষাধক্ষ মোস্তফা কামাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য মনিরুজ্জামান।

অর্থসূচক/জিইউ