প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে জ্বালানি তেল উৎপাদনের দাবি 

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
141

প্লাস্টিক বর্জ্যের সমস্যা সমাধানের জন্য ২০০৫ সাল থেকে গবেষণা শুরু করেন ড. মইন উদ্দিন সরকার। ২০১০ সালে প্লাস্টিক থেকে তেল উৎপাদনের একটি প্রযুক্তির পেটেন্টও তৈরি করেন তিনি। পরে যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা তার এই প্রযুক্তি। এখন নিজ দেশেও এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে চান তিনি। এর জন্য সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশি এ গবেষক।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটের (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে জ্বালানি তেল তৈরির প্লান্ট স্থাপনের বিস্তারিত তথ্য জানান ড. মইন ‍উদ্দিন।

তাদের তৈরি যন্ত্রগুলো দিয়ে এক প্লাষ্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য থেকে ১৩০০ লিটার ডিজেল, ১০ সিলিন্ডার এলপিজি গ্যাস এবং ২৩ লিটার অ্যাভিয়েশন বা জেট ফুয়েল উৎপাদন করা সম্ভব বলে দাবি করেন তারা।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশে একটি প্লান্ট স্থাপন করতে ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এটিকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করে সার্বিক সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার মাধ্যমে এ আবিষ্কারকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হবে বলে দাবি এ গবেষকের।

সংবাদ সম্মেলনে ড. মইন উদ্দিন সরকার বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর ২৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন মিউনিসিপ্যাল সলিড ওয়্যাস্ট (এমএস ডব্লিউ) বর্জ্য উৎপাদন হয় যার মধ্যে ১৫ শতাংশই প্লাস্টিক অর্থাৎ ৪.২মিলিয়ন প্লাস্টিক। যার মাত্র ১০ শতাংশ পূণঃপ্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হয়। ১৯৫০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সারাবিশ্বে প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদন হয়েছে যার মাত্র ৯ শতাংশ পূণঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষম হয়েছে।

বর্জ্য প্লাস্টিকের সমস্যা সমাধানের জন্য ২০০৫ সাল থেকে আমি ও আমার সহকর্মী ড. আনজুমান সেলী গবেষণা শুরু করি এবং ২০১০ সালে প্লাস্টিক থেকে তেল উৎপাদনের একটি প্রযুক্তি ও তার পেটেন্ট তৈরি করি। যা নবায়ন যোগ্য শক্তি। যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা প্রযুক্তি গুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রায় দুই দশক গবেষণার পর আমরা সাফল্যের সাথে একটি প্রযুক্তি আবিষ্কার করতে সক্ষম হই। যার প্রতি টন পরিত্যাক্ত প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য থেকে ১৩০০ লিটার জ্বালানী তেল, ১০ সিলিন্ডার এল.পি.জি গ্যাস, এবং ২৩ লিটার জেট ফুয়েল উৎপাদন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ‘নিজের গবেষণার সাফল্যেকে বাস্তব রুপ দিতে আমি নিজেই আমেরিকায় প্লান্ট গড়ে তুলেছি। পরিত্যাক্ত প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলছি। উৎপাদন কোম্পানির নাম Waste technologies LLC. বর্তমানে কোম্পানিটি বাংলাদেশেও এ রকমের প্লান্ট করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে এই কেন্দ্র স্থাপন হলে একাধারে যেমন দেশকে ক্ষতিকারক প্লাস্টিকের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে, তেমনি দেশের স্বল্পশিক্ষিত থেকে শুরু করে শিক্ষিত যুবকদের ব্যাপক কর্মসংস্থান ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। দেশ অর্জন করতে পারবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো সক্ষম হবে। বাংলাদেশকে এশিয়ার বর্জ্য প্লাস্টিক পূনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি প্রদানের মাধ্যমে বিশ্ব বাজারে দেশের আলাদা একটি জায়গা করতে সক্ষম হবে।

অর্থসূচক/জেডএ/এসকে