তিস্তা বাঁচানোর দাবিতে শুরু হলো রোডমার্চ

0
66

Tista_barageতিস্তা নদী থেকে ভারতের এক তরফা পানি প্রত্যাহার বন্ধ ও অভিন্ন সব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবিতে শুরু হয়েছে রোড মার্চ কর্মসূচি।

গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার্ উদ্যোগে ‘তিস্তা বাঁচাও-কৃষি ও কৃষক বাঁচাও-দেশ বাঁচাও’  শ্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে রোডমার্চটি ১০ এপ্রিল লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার ডালিয়া পয়েন্ট পৌঁছাবে। ওই দিন সেখানে এক জনসভার মধ্য দিয়ে  গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার্ রোড মার্চ কর্মসূচি শেষ হবে।

এদিকে একই দাবিতে আগামি ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল ‘তিস্তা-মার্চ’ করবে বামপন্থি আরও দুটি দল সিপিবি ও বাসদ।

রোর্ড শুরুর আগে কর্মসূচিটি সফল করার জন্য দেশের সর্বস্তরের জনগণ ও ভারতের  গণতন্ত্রমনা জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা পক্ষ থেকে সরকারকে ভারতের সঙ্গে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিহার করে স্বাধীন অবস্থান থেকে জোরালো কুটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা এবং জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সংস্থায় তিস্তার পানি বণ্টনের সমস্যাটি তুলে ধরার দাবি জানানো হয়।

বাম মোর্চার প্রধান সমন্বয়ক  আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘তিস্তার পানি না পাওয়ায় উত্তরের জেলাগুলোর কৃষকদের মাঝে যে হাহাকার ,পানির জন্য যে আর্তি আমরা তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেই এই রোর্ড মার্চ কর্মসূচি শুরু করছি। আমাদের এই কর্মসূচিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’

গণসংহতির নেতা জোনায়েদ সাকি বলেন ‘দেশের মানুষকে তিস্তাসহ ৫৪টি নদীর পানির  ন্যায্য পাওনা আদায়ের সংগ্রামে রাজপথে সোচ্চার হওয়া ছাড়া আর কোন পথ নেই। এর পাশাপাশি আমরা ভারতের গণতন্ত্রমনা জনগণকে সংকট সমাধানে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’
গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা প্রচারপত্রে বলা হয়, ‘স্মরণকালের ভয়াবহ পানি সঙ্কটে আমাদের তিস্তা নদী। পানির অভাবে ঐ নদীর পাড়ের ১২টি উপজেলার প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জমির বোরো আবাদ চরম বিপর্যয়ের মুখে। পানির অভাবে অনেক জমিতে এখন আর বোরো চাষ করতে পারছেন না। এর ফলে ঐ বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষকসহ কৃষির সাথে যুক্ত বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে হাহাকার শুরু হয়েছে।’

প্রসঙ্গত ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে তিস্তা চুক্তিটি স্ই হওয়ার কথা থাকলেও সে সময় পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যয় এর বিরোধীতার কারণে তা হয়ে ওঠেনি।এর পর দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বেশ কয়েক দফা পারস্পারিক সফর হলেও তিস্তার বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি।

যৌথ নদী কমিশনের তথ্যমতে, তিস্তার নদীর এখনকার পানি প্রবাহ অস্বাভাবিক কম। কমিশনের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে ১৯৭৩ থেকে ৮৫ সাল পর্যন্ত দুই দেশে ব্যারেজ নির্মাণের আগে পানির যে প্রকৃতিক প্রবাহ ছিলো তা আর নেই।

tista
একটি মৃতপ্রায় নদী তিস্তা, মরছে পানির অভাবে…

কমিশনের হিসাবে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পানি প্রবাহ ছিল পাঁচ হাজার কিউসেক।এ বছর ফেব্রুয়ারিতে সেই পানি পাঁচশ কিউসেকে নেমে এসেছে। এর আগের বছর পানির প্রবাহ ছিলো আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার কিউসেক।

অথচ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ কমপক্ষে পাঁচ হাজার কিউসেক পানির দাবিদার।

এদিকে তিস্তার পানির ওপর ভরসা করে তিস্তা ব্যারেজ বা সেচ প্রকল্পের আওতায় এবছর রংপুর, নীলফামারি এবং লালমনিরহাট জেলার প্রায় ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।

কিন্তু নদীতে পানি না থাকায়  বোরো আবাদ নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন কৃষকরা।তাই তিস্তার পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা এবং ঢাকায় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এখন প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে।