করপোরেট ট্যাক্স কমানোর দাবি মোবাইল ফোন অপারেটরদের

0
85
mobile operator

mobile operatorআগামি বাজেটে করপোরেট ট্যাক্স বা কোম্পানি কর কমানোর দাবি জানিয়েছে দেশের ছয় মোবাইল ফোন অপারেটর। তারা তালিকাভুক্ত মোবাইল ফোন অপারেটরের করপোরেট ট্যাক্স ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে। আর তালিকা-বহির্ভূত অপারেটরের কর ৩৫ শতাংশ নির্ধারণের কথা বলেছে। বর্তমানে এ করের হার ৪৫ শতাংশ।

এছাড়া, নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সিম ট্যাক্স-এর প্রত্যাহার চেয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব। বর্তমানে প্রতিটি নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে সরকারকে সিমের জন্য ৩০০ টাকা করে কর দিতে হয়।

গত ৩ এপ্রিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তারা এ দাবি করে। অ্যামটব করপোরেট ট্যাক্স ছাড়াও কর ও শুল্ক সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রস্তাব করেছে এনবিআরের কাছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে তালিকাভুক্ত ও তালিকা-বহির্ভুত সব ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ কর দিয়ে থাকে মোবাইল ফোন অপারেটররা। তালিকা বহির্ভূত অন্যান্য কোম্পানির সর্বোচ্চ কর হার ৩৭ শতাংশ হলেও  মোটাইল অপারেটরদেরকে কর দিতে হয় তার চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত অন্যান্য খাতের কোম্পানির কর হার সাড়ে ৩২ শতাংশ হলেও মোবাইল ফোন অপারেটরদেরকে ১০ শতাংশ বেশি হারে এ কর দিতে হয়।

অবশ্য বর্তমানে কেবল ৩ টি অপারেটরকে এ কর দিতে হয়। কারণ বাকী কোম্পানিগুলো এখনও মুনাফার মুখ দেখতে পারেনি অথবা আগে মুনাফায় থাকলেও এখন লোকসান গুনছে।এ ৩ কোম্পানি হচ্ছে-গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবি। এদের মধ্যে কেবল গ্রামীণফোনই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত।

অ্যামটব মোবাইল ফোনে আর্থিক লেনদেন বা মোবাইল ব্যাংকিং সেবার ক্ষেত্রে বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে এ সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর আছে। অ্যামটব বলেছে, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস সেবা খাতে নতুন সংযোজন। এ বিষয়টিকে জনপ্রিয় করা ও তার ব্যাপ্তি বাড়ানোর জন্য এ সুবিধা দেওয়া দরকার। এ সেবার পরিধি বিস্তৃত হলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক হবে।

অন্যদিকে সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, এখনও বাংলাদেশে জনসংখ্যা অনুপাতে মোবাইল ফোনের ব্যবহার অন্যান্য দেশ থেকে কম। জনগোষ্ঠির উল্লেখযোগ্য অংশকে এ সুবিধার আওতায় আনতে কর রেয়াত প্রয়োজন। কারণ গ্রামীণ জনপদের মানুষের ক্ষেত্রে একটি সিমের জন্য ৩০০ টাকা কর দেওয়া বেশ কঠিন। আবার কোম্পানিগুলোকে এ কর দিতে হলে তাদেরকে আর্থিকভাবে বেশ চাপে পড়তে হয়।

অ্যামটব ইন্টারনেট মডেমসহ টেলিকম খাতের বিভিন্ন যন্ত্রাংশে কর ও শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব করেছে।