কালো টাকার পরিমাণ জানতে সমীক্ষা হবে

0
71

Fin_Minister_Econoদেশে কী পরিমাণ কালো টাকা আছে তা জানতে সমীক্ষা চালাবে সরকার। আর আগামি বাজেটে থাকবে তার ঘোষণা। সমীক্ষা শেষ হতে সময় লাগতে পারে তিন বছর।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদেরকে এ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, সরকার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

সোমবার অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেও মনে করেন দেশে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা আছে। আর তার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। এর পক্ষে তিনি যুক্তিও তুলে ধরেন। তাছাড়া দেশ থেকে পুঁজি পাচার হচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশে বার্ষিক বিনিয়োগের হার জিডিপির ২৬ শতাংশের মতো। আর সঞ্চয়ের হার ২৯ শতাংশ। সঞ্চয়ের একটা অংশ বিনিয়োগে আসছে না।

কালো টাকার পরিমাণ কত তা নিয়ে মতের শেষ নেই। কেউ মনে করেন, এ টাকার পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকা। আবার কেউ মনে করেন কালো টাকার পরিমাণ ৩ লাখ কোটি টাকার কম হবে না। দুই বছর আগে অর্থমন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটা সমীক্ষা চালিয়েছিল বলেও জানা যায়। তবে সে সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। এবার সমীক্ষার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন মন্ত্রী।

বৈঠকে অর্থনীতিবিদরা দেশীয় অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ এবং দেশের মানুষকে এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তাছাড়া বন্ড ছেড়ে অনিবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করা যায় কি-না সে বিষয়েও অর্থনীতিদরা পরামর্শ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

বেসিক ব্যাংক সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, শিগগিরই তারা ব্যাংকটির ব্যাপারে কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। তবে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা এখনই প্রকাশ করা হবে না।

রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন আহমেদ, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সংস্থার সম্মানীয় ফেলো ড. দেব্রপ্রিয় ভট্টাচার্য, গবেষণা পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।