ন্যূনতম ২% শেয়ার ধারণের শর্ত শিথিলের প্রস্তাব

0
94
Share_Certificate

share পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত শিথিল করার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে,  শেয়ার ধারণের জন্য বেঁধে দেওয়া এ হার অনেক বেশি। বিশেষ করে ব্যাংকসহ বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এ পরিমাণ শেয়ার ধারণ করা বেশ কঠিন। এ শর্তের কারণে অভিজ্ঞ ও দক্ষ অনেক পরিচালকের সক্ষমতাকে কোম্পানির কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

সোমবার সন্ধ্যায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট বৈঠকে তারা এ প্রস্তাব করেন। তারা সব কোম্পানির ক্ষেত্রে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা না রেখে কোম্পানির আকার ভেদে কয়েকটি ধাপ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছেও স্বীকার করেন, অর্থনীতিবিদরা ন্যূনতম শেয়ার ধারণ ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এ প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে কি-না সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেন নি।

রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন আহমেদ, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সংস্থার সম্মানীয় ফেলো ড. দেব্রপ্রিয় ভট্টাচার্য, গবেষণা পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ, ২০০৯ ও ২০১০ সালে পুঁজিবাজার অস্বাভাবিক চাঙ্গা হয়ে উঠলে অনেক কোম্পানির উদ্যাক্তা পরিচালকরা তাদের শেয়ারের বড় অংশ বিক্রি করে দেন। এমনও পরিচালকের খোঁজ পাওয়া যায়, যার ধারণ করা শেয়ারের পরিমাণ দশমিক ১ শতাংশেরও কম।  ২০১০ সালের শেষভাগে বাজারে ধস নামে। ২০১১ সালে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে অন্যান্য কয়েকটি ব্যবস্থার সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্ত বেঁধে দেন। ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অধ্যাদেশের টু সিসি ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা বলে বিএসইসি এ শর্ত আরোপ করে। এ নির্দেশনাকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন পরিচালক উচ্চ আদালতের শরনাপন্ন হলে আদালত বিএসইসির নির্দেশনাকে বৈধ ঘোষণা করে।