শিক্ষকদের কোন্দলে স্থবির জবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ

0
143
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-লোগো

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-লোগোবিভাগীয় প্রধানের পদকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিভাগীয় শিক্ষকদের মধ্যে কোন্দলের কারণে বিভাগটির ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, সদ্য বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে অপসারণ হওয়া ড. রইছ উদ্দীনের বিরুদ্ধে শিবির-ছাত্রদল কর্মীদের দিয়ে নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুল ওদুদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে আগামী ১০ এপ্রিল বিভাগীয় শিক্ষকদের সাথে বৈঠক করা হবে। পরেই এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জানা যায়, বিনা অনুমতিতে বিদেশ ভ্রমণ করায় ড. রইছ উদ্দীন আহমেদকে গত ২৭মার্চ বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে অধ্যাপক ড. আবদুল ওদুদকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

প্রশাসনের এ ধরণের সিদ্ধান্তের পর থেকেই ড. রইছ উদ্দীন বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিয়ে আবদুল ওদুদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গত ৫ এপ্রিল থেকে বিভাগের তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহিন, চতুর্থ ব্যাচের আলামিন, পঞ্চম ব্যাচের মিল্লাত, হাফিজ ও সাব্বিরের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অধ্যাপক ড. আবদুল ওদুদের অপসারণ দাবি করে আন্দোলন করছে। এদের অনেকেই ছাত্রদল-শিবিরের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে বিভাগটির ৬ষ্ঠ ব্যাচের ৬ষ্ঠ সেমিষ্টারের ফাইনাল পরীক্ষার একটি কোর্সের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বিভাগটির একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, ড. রইছ উদ্দীন, সহকারী অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ও প্রভাষক ছালেহ উদ্দীন ছাত্রদল-শিবিরের কর্মীদের দিয়ে আন্দোলন করাচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থী আন্দোলন করতে না চাইলেও শিক্ষকদের ভয়ে তারা আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। আন্দোলনের ফলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ ব্যাপারে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের প্রিন্স বলেন, ড. রইছ উদ্দীনের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের দিয়ে এ ধরণের আন্দোলন চালাচ্ছে। আর ছাত্রদল-শিবিরের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের সমর্থন দিচ্ছে। এভাবে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেলে বিভাগটি পিছিয়ে পড়বে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে ড. রইছ উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।