ভবন নিরাপত্তা ইস্যুতে বন্ধ হচ্ছে নতুন নতুন কারখানা

0
84
127 new rmg factory at sick list

127 new rmg factory at sick listপোশাক শিল্পে অগ্নি, বিদ্যুৎ ও ভবন নিরাপত্তা ইস্যুতে কারখানা বন্ধের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। বিদেশি ক্রেতাদের কারখানা পরিদর্শনের ভিত্তিতে তালিকায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন কারখানা। ইতোমধ্যে এই তালকিায় নাম লিখিয়েছে ৯টি পোশাক কারখানা। যার ফলে বেকার হয়ে পড়েছে ১০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক। শ্রমিক নেতাদের দাবি, চাকরির বিকল্প ব্যবস্থা না করে যেন কারখানা বন্ধ করা না হয়।

বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর ভবন নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উত্তর আমেরিকার ক্রেতা জোট অ্যালায়েন্স ফর ওয়ার্কার্স সেফটি ইন বাংলাদেশ (অ্যালায়েন্স) ও ইউরোপের ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ (অ্যাকর্ড) কারখানা পরিদর্শন করছে।

তাতে অবকাঠামোগত সমস্যা দেখিয়ে বন্ধ হয়েছে এই ৯টি কারখানা। এর মধ্যে সফ্টটেক্স কটন, ফেম নিট ওয়ার, ডায়মন্ড অ্যাপারেলস, ডে ডিজাইন, ডে অ্যাপারেলস, বায়োজিত ফ্যাশনস, মেনস অ্যাপারেলস, অল ওয়েদার, ক্রিস্টল অ্যাপারেলস লিমিটেড রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুরে রয়েছে ৩টি, মহাখালীতে ২টি, চট্টগ্রামে ৪টি কারখানা।

কারখানা বন্ধ নিয়ে বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম অর্থসূচককে জানান, অ্যাকর্ড পরিদর্শন করা ৩৭০টি কারখানার মধ্যে ৯টি বন্ধ করা হয়েছে। আর এটা অবকাঠামোগত ঝূঁকি থাকার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, অ্যালায়ন্সে ইতোমধ্যে ৩০৫টি কারখানা পরিদর্শন করেছে। তবে কোনো কারখানা ঝূঁকিপূর্ণ পায়নি। যেটা তাৎক্ষণিক বন্ধ করা দরকার। এতো কারখানার পরিদর্শনের মধ্যে এই সংখ্যা শিল্পের জন্য ভীতির কোনো কারণ হিসেবে দেখেন না তিনি।

এই কারখানা বন্ধের ফলে বেকার হলো ১০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক। আর বিদেশি ক্রেতারা শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ে কাজ না দেওয়ায় এই শ্রমিকের সংখ্যা আরও বাড়ছে। তাতে হাজারো পরিবার অসহায় হয়ে পড়ছে বলে দাবি শ্রমিক নেতাদের। তারা বলছেন, বিকল্প চাকরি না দিয়ে শ্রমিক ছাঁটাই অমানবিক।

বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারি লীগের সভাপতি নেতা সিরাজুল ইসলাম রনি অর্থসূচককে জানান, পরিদশর্নের নামে কারখানা বন্ধ করা হচ্ছে। তাতে হাজার হাজার শ্রমিক চাকরি হারাচ্ছে। তবে সরকার-সহ মালিকরা শ্রমিকদের বিকল্প চাকরির কোনো ব্যবস্থা করছে না। এটা খুবই অমানবিক।

তিনি কারখানা বন্ধের জন্য নীতিমালা করার দাবি জানান। আর বিকল্প চাকরির ব্যবস্থা না করে কোনো কারখানা বন্ধ না করার দাবি জানান। তিনি আরও জানান, এখন প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে আছে। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে শ্রমিক ছাটাই করা হচ্ছে। তাতে ব্যাপক হারে পোশাক শ্রমিক চাকরি হারাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বেকার শ্রমকিদের চাকরির নিশ্চায়তা দাবি করেন।

সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারশনরে সভানেত্রী নাজমা আক্তার বলেন, বিদেশি ক্রেতারা পরিদর্শন ছাড়াও শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ে (একই ভবনে একাধিক কারখানা) কাজ দিচ্ছে না। তাতে আরও ৭টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ না দিয়ে কারখানা বন্ধ করার কারণে ক্রেতাদের কাছে তিনি এর ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

সংগঠন দুইটির বাংলাদেশে ২৩০০ কারখানা পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকার ক্রেতা জোট অ্যালায়েন্সের অধীনে ৬০০ কারখানা ও ইউরোপের ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ডের অধীনে ১৭০০ কারখানা রয়েছে। এই জোট দুটির অর্ন্তভুক্ত কোম্পানিগুলো এই সব কারখানা থেকে তাদের পোশাক কিনে থাকে।

বিজিএমইএ বলছে, অ্যালায়েন্সের অধীনে ৬০০ কারখানার চুড়ান্ত পরিদর্শন কাজ শেষ হবে চলতি বছরের জুলাই মাসে। আর অ্যাকর্ডের অধীনে ১৭০০ কারখানা চলতি বছরের শেষ নাগাদ সমাপ্ত হবে।