হীরা আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানোর প্রস্তাব বাজুসের

0
78

Diamondঅমসৃণ হীরা আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানোর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস)। সেই সঙ্গে সোনা ও রুপা বিক্রির ওপর ধার্য করা মূসক কমানোসহ গোল পলিসি প্রণয়ন করারও দাবি করেছেন তারা।

বাজুস তার প্রস্তাবে উল্লেখ করেছে, এখন অমসৃণ হীরা আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক (সিডি),  নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি), সম্পূরক শুল্ক (এসডি), ভ্যাট, উৎসে  আয়কর (এআইটি) ও এটিভি মিলে ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ কর ধার্য্ রয়েছে। এই অমসৃন হীরা থেকে আরোপিত কর প্রত্যাহার করে তা ১০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়। আর এটি করা হলে হীরা কাটিং ও পলিশিংয়ের অনেক ইন্ডাস্ট্রি হবে। এতে করে বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে। দেশের কারিগরদের হাতে তৈরি হওয়া হীরা রপ্তানি করে অর্থ উপার্জনের বিষয়টি এগিয়ে যাবে বলে মনে করে বাজুস।

একইভাবে মসৃন হীরা আমদানির ক্ষেত্রে সিডি, আরডি, এসডি, ভ্যাট, এআইটি ও এটিভি মিলে ১৫৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ শুল্ক ও কর আরোপ করা হয়েছে। সংগঠনটি এটি প্রত্যাহার করে সর্বমোট ১৫ শতাংশ শুল্ক ও কর পরিশোধ সাপেক্ষে মসৃন হীরা আমদানির সুযোগ দিতে সুপারিশ করে।

প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, এখন জুয়েলারি ব্যবসায় স্বর্ণ, স্বর্ণালংকার ও রৌপ্যালংকারের বিক্রয় বাবদ প্রাপ্ত সমুদয় অর্থের ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ মূসকের ওপর ভিত্তি ধরে নীট মূসক ২ ধার্য্য রয়েছে। এই ধার্য্য করা মূসক কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়। বলা হয়, এতে মূসক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হওয়াসহ দেশিয় পণ্যের প্রসার ঘটবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

এখন ব্যাগেজ রুলসের আওতায় একজন যাত্রী বিদেশ থেকে আগমনকালে অনধিক ২০০ গ্রাম কিংবা ১১ দশমিক ৬৬ গ্রাম স্বর্ণবার আমদানি করতে পারে। আর এর জন্য স্বর্ণের ক্ষেত্রে ১৫০ টাকা ও রৌপ্যের ক্ষেত্রে ৬ টাকা শুল্ক কর প্রদান করে আমদানির বিধান রয়েছে। তবে, এর পাশাপাশি একজন ব্যবসায়ী যাতে এই বিধানে দুই কেজি পরিমাণ সোনা কিংবা রুপা আমদানি করতে পারে সেই বিষয়ে সুপারিশ করে বাজুস। এর ফলে সাশ্রয়ী মূল্যে স্বর্ণ কিংবা রৌপ্য আমদানি করতে পারবে। তাতে অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হবে। প্রকৃত জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

বিকাশমান এই স্বর্ণ শিল্পের জন্য যুগোপযোগী গোল পলিসি কিংবা স্বর্ণ নীতিমালা করার দাবিও জানায় সংগঠনটি। এই নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ইতোপূর্বে সরকার আশ্বাস দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রতিবেশি দেশ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, ও নেপালের মতো গোল্ড পলিসি প্রণয়ন করা হোক। এতে করে বন্ধ হওয়া বহু জুয়েলারি কারখানা আবার চালু হবে। আর এতে করে বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে। আবার বিকশিত হবে জুয়েলারি শিল্প। তাই দেশে স্বর্ণ শিল্পের বিকাশের স্বার্থে এই প্রস্তাব বিবেচনায় আনার প্রস্তাব করা হয়।