ফরিদপুরে রেলের সম্পদ পাচার চেষ্টা

0
62
ট্রেন

ট্রেনফরিদপুরে রেল স্টেশন থেকে গোপনে মালামাল পাচারের সময় হাতেনাতে আটক ব্যক্তি ও জড়িতদের বিরুদ্ধে রেলকর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ঘটনার ৫ দিনেও মামলা হয়নি।

এদিকে আসামি ও মালামাল ছাড়াতে ফরিদপুরে বিভিন্ন ক্ষমতাসীন ব্যক্তি ও আমলাদের ম্যানেজ করতে প্রাণপন চেষ্টা করে চলছে রেলের মালচুরির সাথে জড়িত ঠিকাদারই প্রতিষ্ঠান মেসার্স আশরাফুল কবির রেন্টুর লোকজন।

স্থানিয়রা জানান, রাজবাড়ী-ফরিদপুর রেলপথ পূণরায় স্থাপন কাজের অংশ হিসেবে ফরিদপুর রেলস্টেশনের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই কাজের ঠিকাদার আশরাফুল কবির রেন্টুর সহযোগীরা স্টেশন এলাকার পুরানো মালামাল বেশ কয়েকবার গোপনে পাচার করে। গত মঙ্গলবার বিকেলে আবারও তারা শতাধিক রেল স্লিপার, পুরু লোহার পাতি, পানির ট্যাংকসহ বিভিন্ন লোহার সামগ্রী গোপনে ট্রাকে করে পাচার করার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন ডিবি পুলিশকে জানালে তারা ঘটনা স্থলে গিয়ে মালামালের অকশনের কাগজপত্র দেখতে চায়। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারলে পুলিশ মালামালগুলো জব্দ করে এবং নির্মাণ কাজের এক মিস্ত্রী ও ট্রাক চালকে আটক করে। তাদেরকে বুধবার বিকেলে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় পৌর কমিশনার আব্দুল জলিল শেখ জানান, এর আগেও ওই ঠিকাদারের লোকজন গোপনে রেলের মূল্যবান জিনিসপত্র পাচার করেছে, সেই ঘটনারও কোন সুরহা হয়নি। আবার ওই একই চক্র সরকারি রেলের স্লিপারসহ মালামাল পাচার করার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাদেরকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়।

রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান জানান, ফরিদপুরের স্টেশন থেকে আগের মালামাল পাচার হওয়ার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, রেলে কোন মালামাল নিতে হলে অবশ্যই রেল কতৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন থাকতে হবে। আবারও রেল স্লিপার পাচার হওয়া বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান। তিনি রেল কতৃপক্ষের মামলা করার বিষয়ে বলেন, আমরা খতিয়ে দেখছি রেলের কতটুকু মালামাল অন্যায় ভাবে নিয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

ফরিদপুর স্টেশনের ভবন নির্মাণ কাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম জানান, আমাদের শতভাগ কাজ ঠিক নয়। নিয়ে যাওয়া মালামালের মধ্যে কিছু অবৈধ মাল ছিল। কেউই তো একশ পারসেন্ট কাজ ঠিক করতে পারে না। তবে তিনি এ কথা গুলো এভাবে না লিখার অনুরোধ করে বলেন, আমি কথা গুলো মন থেকে বলেছি প্রত্রিকায় লেখার জন্য নয়। তিনি বলেন, অকশনের মালের মধ্যে রেলের স্লিপার থাকার কথা নয়।

এই ঘটনায় ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ওসি সৈয়দ মোহসিনুল হক জানান, রেলে উদ্ধার করা মালের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এখনো কেউ নিয়ে আসেনি। আটক দুই ব্যক্তিকে জেল হাজতে আছে। তবে ঘটনার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও রেল কতৃপক্ষ এখনো মামলা করেনি।

এমআইটি/সাকি