বীজে বিস্তর গুণ

0
174

seed3উদ্ভিদের প্রজননের অন্যতম মাধ্যম আর বীজ। তবে বীজকে কেবল প্রজন্মের ধারকই না তা আবার জানালেন গবেষকরা। তারা বলছেন কিছু বীজের মধ্যে প্রজনন ক্ষমতা ছাড়াও আছে এমন কিছু গুণ যা সরাসরি মানুষের কল্যাণেই কাজে আসে। সম্প্রতি গবেষকরা এমন পাঁচটি বীজের কথা জানিয়েছেনে যেগুলো আপনার আশেপাশেই পাওয়া যায় অথচ এতোদিন হয়তো আপনি খেয়ালই করেন নি সেগুলোর গুণাগুন সম্পর্কে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন ওই বীজগুলো কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়, বরং নানা পুষ্টিগুনেও ভরা। এগুলোতে প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ থাকায় তা স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী । আর তাই নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়ে যায় বহুগুণ।

গবেষকরা তাই প্রতিদেনের খাদ্য তালিকায় খাদ্যাভাসে তাই পাঁচ ধরনের বীজ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন-

১. রেড়ি বীজ: নিরামিষভোজীদের ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড কমাতে চাইলে তাদের খাদ্যাভাসে অবশ্যই রেড়ি বীজ রাখতে হবে। কারণ এটা পুষ্টির একটা ভালো উৎস। এতে প্রোটিন ও তন্তু আছে যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

উপকারী দিক: এ ধরনের বীজ খেলে মানুষের ডায়াবেটিসের ঝুকিঁ এবং বদহজমের সমস্যা কমে আসে। এমনকি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে,  এগুলো রক্তচাপ কমাতেও সাহায্য করে থাকে। এগুলো ক্ষুধা কমায় ফলে অতিরিক্ত আহারের ঝামেলা থেকেও মুক্ত থাকা যায়।

কীভাবে ব্যবহার করবেন: এগুলো স্বাদহীন হওয়ায় সকালের খাবারের সাথেই এটি খাওয়া ভালো।

২. তিষি বীজ: এ বীজে ক্যালরি অনেক কম থাকে। তবে প্রোটিন, তন্তু ও আলফা লাইনোলেনিক এসিডের  পরিমাণ বেশি থাকে।

উপকারী দিক: এ বীজ স্বাস্থ্যের কার্ডিওভাসকুলারের রোগে ও হজমে সাহায্য করে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন: শরীরের হজমের জন্য এ বীজটি সকালের নাস্তা যেমন-প্যানকেকস, দই, ওটমিল ও খাদ্যশস্য উপর ছিটিয়ে দিয়ে খেতে হয়। তাতে উপকার বেশি পাওয়া যায়।

৩. কুমড়ার বীজ:  এ বীজ ভিটামিন-ই, জিঙ্ক, ফসফরাস ও ম্যাঙ্গানিজের ভালো উৎস। এছাড়াও এতে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ৪ দশমিক ৭ গ্রাম টেবিল চা চামচ বীজ খেলেই এটি ক্ষতিকর কোরেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে একে ভালো অবস্থানে নিয়ে যায়।

উপকারী দিক: কুমড়ার বীজ ডায়বেটিস রোগীদের ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডায়বেটিস রোগীদের কিডনি ভালো রাখতে সহায়তা করে। জীবানু ধ্বংস করতেও এ  বীজের কোনো জুড়ি নেই। নিয়মিত এ বীজ খেলে দেহে ভাইরাস ও ছত্রাক প্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরি হয়। এটি ভালো কৃমি নাশকও বটে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন:  সূপ, সালাদ বা নুডলসের উপর এর আবরণ দিয়ে এটি খাওয়া যায়। আবার কখনও কখনও এটি চিবিয়েও খাওয়া যায়।

৪. তিল বীজ: এ বীজে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও তামা থাকে।

উপকারী দিক: এগুলো শরীরের ভিটামিন-ই এর মাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়। একই সাথে এটি হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখার জন্যও কাজ করে থাকে। এমনকি বিভিন্ন ধরনের রোগের ঝুকিঁ কমাতেও সাহায্য করে এ বীজ।

কীভাবে ব্যবহার করবেন: এগুলো চিবিয়ে খাওয়া যায়। এমনকি সালাদ, মুরগি, মাছ, দই ও সকালের নাস্তার সাথেও এটি খেতে পারেন।

৫. সূর্যমুখীর বীজ: অতিরিক্ত মোটা হলে ক্ষুধার সময় এই খাবারগুলোই গ্রহণ করা ভালো। কারণ এতে মনো ও পলি অসম্পৃক্ত যৌগ আছে যেগুলো শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী।

উপকারী দিক: এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন–ই আছে যা চুল এবং ত্বকের জন্য অনেক ভালো। এমনকি সূর্যমুখীর বীজে ম্যাগনেসিয়াম থাকার কারণে তা হাড়ের জন্যও অনেক ভালো।

কীভাবে ব্যবহার করবেন: রুটি, সালাদ, স্যূপ বা ঠাণ্ডার মধ্যে ছিটিয়েও এটি খাওয়া যায়।