সোনালী ব্যাংকের এমডি ও চীফ হুইপের ভাইকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

0
66
দুদক

দুদকসোনালী ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ. স. ম. ফিরোজের ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ব্যাংকটির এমডি প্রদীপ কুমার দত্তের মাধ্যমে শুরু হয় এ জিজ্ঞাবাদ। এরপরে আ স ম ফিরোজের ভাই আবুল মকসুদ মো. ফরহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

 সোমবার দুপুর থেকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে  তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। দুদকের বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা বাহাদুর আলম শাহ এ জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান প্রদীপ কুমার দত্ত। তবে আবুল মকসুদ মো. ফরহাদ নিজেকে নির্দোশ হিসেবে দাবি করে বলেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এ অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ঋণ কেলেংকারীর ঘটনায় জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ. স. ম. ফিরোজকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

দুদক সূত্র জানায়, চিফ হুইপ আ. স. ম. ফিরোজের মালিকানাধীন পটুয়াখালী জুট মিলের ঋণ নিয়ম বর্হিভূতভাবে পুনঃ তফসিল করেন এবং একই সাথে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে সাড়ে ১৩ কোটি টাকার বেশি সুদ মওকুফ করে নিয়েছেন।

এ ক্ষেত্রে কোনো আইন-কানুন ও নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি। ব্যাংকটি ইতিমধ্যেই কোম্পানির কাছ থেকে যে সুদ আয় মুনাফা হিসেবে দেখিয়েছে, তা-ও মওকুফ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রাক্কালেই আওয়ামী লীগ দলীয় এই আইন প্রণেতা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব সুযোগ নিয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর ঋণটি পুনঃ তফসিল করে।  এ নিয়ে তার এই ঋণ আটবার পুন:তফসিল হয়।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংকের (বর্তমানে বিডিবিএল) অর্থায়নে ১৯৮৫ সালে পটুয়াখালী জুট মিল স্থাপিত হয়। এসময় সোনালী ব্যাংক পটুয়াখালী জুট মিলকে মোট এক কোটি ২০ লাখ টাকার চলতি মূলধন ঋণ দেয়। এরপর চলতি মূলধন ও মেয়াদি ঋণ বিতরণ বাড়তে থাকে। ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু হয় সোনালী ব্যাংকের সুদ মওকুফ ও পুনঃ তফসিল। এর মধ্যে কয়েক দফা সরকারের নীতিমালার আলোকে সুদ মওকুফ ও সুদবিহীন ব্লক হিসাবের সুযোগও নিয়েছে পটুয়াখালী জুট মিলের মালিকপক্ষ।

এর আগে ২০১০ সালের ১১ অক্টোবর ঋণটি পুনঃ তফসিল ও সুদ মওকুফ করা হয়। সে সময় সুদ মওকুফ ও পুনঃ তফসিলের ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ বিধি অনুসারে এককালীন জমা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের শর্ত দেয়। বিধান অনুসারে তখন এককালীন জমার পরিমাণ হিসাব করা হয়েছিল এক কোটি ২২ লাখ টাকা। কিন্তু জমা হয় মাত্র ২০ লাখ টাকা। মালিকপক্ষ তিনটি চেক দিয়েছিল এককালীন জমার। তার দুটি চেক প্রত্যাখ্যাত হয়।

উল্লেখ্য, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা কোনো ঋণ পুনঃ তফসিলের আইনগত সুযোগ আছে। আর প্রত্যেক দফা পুনঃ তফসিলের আবেদনের সঙ্গে এককালীন জমা নগদে পরিশোধের বিধান দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ দফাতেও ঋণটি পুনঃ তফসিলে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর বিধান মানা হয়নি। আইনে তিনবারের বেশি কোনো ঋণ পুনঃ তফসিলের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। বিধান মেনে এককালীন জমার টাকা নগদে নেওয়া হয়নি। পর্ষদ নগদ জমার পরিমাণ নির্ধারণ করেছে সর্বসাকল্যে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা। কিন্তু বিধান হচ্ছে, এককালীন জমা নিতে হবে ৫০ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে নগদ জমা করার কথা চার কোটি ৫৬ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। ব্যাংকের শাখা পর্যায় থেকে পটুয়াখালী জুট মিলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।

মিলটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। কোম্পানিকে দেওয়া ঋণের বিপরীতে কোনো মালামাল গুদামেও নেই।