চিনি আমদানিতে শুল্ক বাড়লো ৬০ শতাংশ

0
65

sugarরাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল ও দেশের আখ চাষিদের সুরক্ষায় চিনি আমদানির ওপর বড় অঙ্কের শুল্কারোপ করেছে সরকার। এরমধ্যে অপরিশোধিত চিনির ক্ষেত্রে প্রতি টনের ওপর ৫০০ টাকা ও পরিশোধিত চিনির প্রতিটনের ওপর ১৫০০ টাকা শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক জারিকৃত এক পরিপত্রের মাধ্যমে এ শুল্কারোপের কথা জানানো হয়।

নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, পরিশোধিত চিনির প্রতি টনের ওপর দুই হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে চার হাজার টাকা এবং অপরিশোধিত চিনির ওপর প্রতি টনে এক হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে দুই হাজার টাকা শুল্ক দিতে হবে আমদানিকারককে।

সে হিসেবে পরিশোধিত চিনির ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়লো ৬০ শতাংশ আর অপরিশোধিত চিনির  ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়লো প্রায় ৩৩ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশের বার্ষিক চিনির চাহিদা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে চালু থাকা ৫টি রিফাইনারি মিলের বার্ষিক উৎপাদনের ক্ষমতা প্রায় ৩৩ লাখ মেট্রিক টন। মোট চাহিদার প্রায় ৯০ ভাগ রিফাইনারিগুলোর মাধ্যমে পূরণ করা হচ্ছে। বাকি ১০ ভাগ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন ও আমদানিকারকরা পূরণ করে থাকে।

এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সাথে বৈঠক করে বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন দেশিয় শিল্প বাচাতে আমদানিকৃত চিনির ওপর শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়।

তাদের প্রস্তাবে বলা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত পনেরটি চিনিকলে ২০১৩-২০১৪ মাড়াই মৌসুমে আখ চাষিরা এ পর্যন্ত বিক্রিত আখের বিপরীতে প্রায় শত কোটি টাকা পাওনা রয়েছেন। প্রয়োজনে তাঁরা আখের পাওনা বাবদ চাষিদের অনুকূলে টাকার পরিবর্তে সরকার নির্ধারিত মূল্যে চিনি বরাদ্দের দাবি জানান। ডেফার্ড এলসির মেয়াদ ১৮০ দিন থেকে ২৪০ কিংবা ৩০০ দিন নির্ধারণ করা। বাজারে চিনির মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রিত মিলগুলোর উৎপাদিত চিনির মূল্য ও বেসরকারি সুগার রিফাইনারি মিলের উৎপাদিত চিনির একক মূল্য নির্ধারণ করা, আমদানিকৃত চিনির ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপসহ এক গুচ্ছ দাবি তোলা হয়।

এছাড়াও ওই প্রস্তাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে সুগার রিফাইনারিগুলোর চিনি ইউরোপে রপ্তানির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।

আর তাদের মুখে চিনি আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়ে শিল্প মন্ত্রী বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে বর্তমান সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো শিল্প কারখানা বিক্রি করবে না। যে সব কারখানা বর্তমানে লোকসানি রয়েছে, বিএমআরই ও পণ্য বৈচিত্রকরণের মাধ্যমে সেগুলোকে লাভজনক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকার চায় দেশি শিল্পের বিকাশ ঘটুক। তাই সরকার আমদানি পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপের মাধ্যমে দেশি শিল্প বিকাশে  উদ্যোগি হয়েছে।

এইউ নয়ন