‘নির্বাচন কমিশন সরকারের দাসীতে পরিণত হয়েছে’

0
61

Abul moksud নির্বাচন কমিশন সরকারের দাসীতে পরিণত হয়েছে। আগের দিনের জমিদারদের গোমস্তারাও জমিদারদের প্রতি এত প্রভুভক্ত ছিল না বলে মন্তব্য করলেন কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মুকসুদ।

রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

মুকসুদ বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন সরকারের হয়ে কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন শক্ত অবস্থানে থাকলে সরকারদলীয় লোকদের অন্যায় আবদার মানতে হতো না।

ছাত্র রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সেই ছাত্র রাজনীতি এখন আর নাই। এখন আছে অ-ছাত্রদের রাজনীতি। শিক্ষা ব্যবস্থাকে এখন ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারা বলেছিল এই নির্বাচন হচ্ছে সংবিধান রক্ষার নির্বাচন। ভোটারবিহীন নির্বাচন শেষে তারা পাঁচ বছরই ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা দিলো। সহিংসতা এবং কেন্দ্রদখলময় উপজেলা নির্বাচনের পর এখন তারা বলছে সামনের নির্বাচনও একই কায়দায় অনুষ্ঠিত হবে।

পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার সভাপতি এবং আইনজীবী রেজওয়ানা আহসান বলেন, মানুষ যখন সরকারি দলের প্রতি অসন্তুষ্ট হয় তখন তারা বিরোধী দলের দিকে তাকিয়ে থাকে। দেশের বড় একটি দল যারা জাতীয় নির্বাচনে না আসলেও উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনের সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ভোট ডাকাতির মত ইস্যুকে তারা সামনে না এনে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে এই নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছে।

নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনই হচ্ছে নির্বাচনকালীন সরকার ও তত্ত্ববধায়ক সরকার। এর কারণ হলো তারা নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে পেরেছে। কিন্তু আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা সম্পর্কে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল, ভোট ডাকাতি, জালভোট দেওয়ার মত ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন বলছে তাদের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ হওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক ভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী। ভোট চলাকালীন সময়ে যেকোনো সময় নির্বাচন বাতিল বা স্থগিত করতে পারে। এমনকি দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার ক্ষমতাও ইসির আছে।

সিপিবি সাধারণ-সম্পাদক আবু জাফর বলেন, একটা অবৈধ ব্যবস্থাকে বৈধ করার যে প্রক্রিয়া চালু হয়ে গেছে, তাতে গণতন্ত্র কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা ভাবনার বিষয়। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যখন দেখছিল তাদের জনপ্রিয়তা শুন্যের কোঠায় পৌঁছেছে, তখনই আচরণ বদলে দেয়।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- আইনবিদ ড. শাহদীন মালিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আমেনা মহসিন, বাসদের সাধারণ-সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার প্রমুখ।

জেইউ/এএস