কৃষিভিত্তিক শিল্পে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের চাহিদা বাড়ছে

0
73
agri loan disbusrsment

agri loan disbusrsmentকৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য মফস্বলভিত্তিক শিল্প স্থাপনে বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ঘুর্ণায়ন পদ্ধতিতে বর্তমানে এ তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আর এ তহবিল থেকে ঋণের সুবিধা নিচ্ছে এক হাজার ৮৩০ টি কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান। মার্চ মাসে শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এ তহবিল থেকে কৃষকরা অত্যন্ত স্বল্প সুদে ঋণ পেয়ে থাকেন। ফলে কৃষকদের কাছে এ ঋণের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাছাড়া এ ঋণের ক্ষেত্রে কৃষকরা চলতি মূলধনে এক বছর, মধ্যম মেয়াদী এবং দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ হিসাবে যথাক্রমে ৩ বছর এবং ৫ বছর মেয়াদি ঋণ পেয়ে থাকেন। মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে ৬ মাস রেয়াতি সময়ও প্রযোজ্য হয় বলে তারা জানান। আর ষান্মাসিক সমান কিস্তিতে এ ঋণ পরিশোধ করার সুযোগ থাকায় কৃষকদের এ তহবিলের প্রতি আগ্রহ বেশি বলে তারা মনে করেন।

চলতি বছরের মার্চ ভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কৃষিভিত্তিক শিল্পে অর্থায়নের বিপরীতে এ স্কীমের আওতায় মোট ৩৭টি কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত কৃষিভিত্তিক এক হাজার ৮৩০ টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া হয়েছে। এ ঋণের পরিমান ৪৩৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। বর্তমানে এ ফান্ডের পুনঃঅর্থায়নযোগ্য অর্থের স্থিতির পরিমাণ ১৫৬ কোটি ২ লাখ টাকা। এ স্কীমের আওতায় ২৮টি ব্যাংক ও ১৭টি নন্-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ রয়েছে।

সম্প্রতি ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এসএমই প্রতিনিধিদের সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক বৈঠক করে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ খাতে আরও বেশি ঋণ বিতরণের জন্য তাদের জোর তাগিদ দেন।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ২৩৩ তম সভায় ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্রেডিট ফান্ড’ থেকে ১৫০ কোটি টাকা নিয়ে এ তহবিলের যাত্রা শুরু হয়। চাহিদা বাড়তে থাকায় ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে পরিচালনা পর্ষদ এ তহবিলকে ২০০ কোটি টাকায় পরিণত করার সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের জুলাই মাসে এ তহবিলকে ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে কৃষকরা ব্যাংক রেটের সাথে মাত্র ৫ শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারছেন।

এসএই/