চালু করা যাচ্ছে না পাটকলের দ্বিতীয় ইউনিট

0
107
পাটকল

পাটকল২০০৪ সালে রাজশাহী জুট মিলের কলেবর বৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্বিতীয় ইউনিট চালুর উদ্দ্যোগ নেয় সরকার। এর পর প্রায় ১০ বছর পরও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় চালু হচ্ছে না মিলের দ্বিতীয় ইউনিট। এতে করে দ্বিতীয় ইউনিট চালুর জন্য নিয়ে আসা কোটি কোটি টাকার যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে সেখানে প্রায় দেড় হাজারের অধিক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অবিলম্বে তা চালুর দাবি জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, রাজশাহী জুট মিলের শক্তিবৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুটমিলস কর্পোরেশন (বিজিএমসি) দ্বিতীয় ইউনিট চালুর কথা বারবার বলে আসছিল দীর্ঘ দিন থেকেই। কয়েক দফায় বিজিএমসি প্রতিনিধিরা পাটকলটি পরিদর্শন করেন। তারা অর্থ বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশও করেন। কিন্তু গত ১০ বছরেও অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় তা চালু করা যাচ্ছে না পাটকলের দ্বিতীয় ইউনিটটি।

এ ব্যাপারে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী এমাজ উদ্দিন প্রামানিক এমপি গত ১৬ মার্চ রাজশাহী জুট মিল পরিদর্শনে এসে রাজশাহী জুট মিলকে সর্বশ্রেষ্ঠ মিল হিসাবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে জুট মিলের দ্বিতীয় ইউনিট চালুর জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা না পাওয়ায় ব্যাপারটি এখনও ঝুলেই আছে। কবে নাগাদ অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যেতে পারে, সে ব্যাপারেও মিল কর্তৃপক্ষ সঠিক ভাবে কিছুই বলতে পারেননি। তাই জুটমিলের দ্বিতীয় ইউনিট চালুর ব্যাপারটি এখনও ঝুলেই রয়েছে।

মিল কর্তৃপক্ষ জানান, ২০০৪ সালের ১১মার্চ রাজশাহী জুট মিলের কলেবর বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার দ্বিতীয় ইউনিট চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং ভবন নির্মাণ কাজেরও উদ্বোধন করেন। ভবনের দেওয়াল নির্মাণও হয়। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নির্মিত ভবনের ওয়াল ভেঙ্গে পড়ায় সেটা চালুর উদ্যোগে ভাটা পড়ে। আর মুক্ত বাজার অর্থনীতির ডামাডোলের কারণে তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশের শিল্প-কারখানার উপর নেমে আসে খড়গ হস্ত। এতে শতশত শিল্প-কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই ধাক্কাতেই এশিয়ার খ্যাত সর্ববৃহৎ আদমজী জুটমিল বন্ধ হয়ে গেলে ঐ মিলের তাঁত ও মেশিন নিয়ে আনা হয় রাজশাজী জুট মিলের দ্বিতীয় ইউনিট চালুর জন্য।

দীর্ঘ দিন যাবৎ পড়ে থাকার পর তাঁতমেশিন বসানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ মেশিল টুলস ফ্যাক্টরিকে (বিএমটিএফ)। তারা কিছু তাঁতমেশিন বসানোর চেষ্টা করেও তাদের দক্ষ লোক বলের অভাবে তাঁতমেশিন বসানোর কাজে অপারগতা প্রকাশ করে। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে তাঁত মেশিন বসানোর কাজটি একই অবস্থায় ঝুঁলে থাকায় বিএমটিএফ-এর পাওনা হয় অনেক টাকাই। যা পরিশোধ না করলে মেশিন বসানোর কাজেও হাত দিতে পারছে না রাজশাহী জুট মিল কর্তৃপক্ষ।

ইতিমধ্যেই বিজিএমসি ও বিএমটিএফ-এর যৌথ সভাও হয়েছে পাওনার পরিমাণ ও পরিশোধের ব্যাপারে। তবে কবে নাগাদ তাদের পাওনা পরিশোধ করা হবে তা বলতে পারেনি জুট মিল কর্তৃপক্ষ। বিএমটিএফ-এর পাওনা পরিশোধ হলেই জুটমিলের দ্বিতীয় ইউনিট চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন জুটমিলের বর্তমান কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে তাদের লোকবল রয়েছে বলে তারা জানান।

রাজশাহী জুটমিল শ্রমিক ইউনিয়ন (সিবিএ) নেতৃবৃন্দের মতে এই মিলের অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বরাবরই উর্ধ্বতন মহলের বিমাতাসূলভ আচরণের কারণে এটা চালু হতে দেরি হচ্ছে। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ পেলে এই জুট মিলকে লাভজনক কারখানায় পরিণত করা সম্ভব। শুধু তাই নয় অতিতে যখন বাংলাদেশের শিল্প খাতে লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল অনেক কারখানা তখনও রাজশাহী জুট মিল নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে শ্রমিক-কর্মচারি ও কর্মকর্তাদের নিয়মিত বেতন পরিশোধ করেছে। সে কারণেই এক সময় রাজশাহী জুটমিলকে বাংলাদেশের মডেল হিসাবে গণ্য করা হতো।

সিবিএ নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজশাহী জুটমিলের সাথে বিমাতাসূলভ আচরণের কারণে মিলকে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এ মিলের বরাদ্দ টাকাও অন্য মিলে পাঠিয়ে দিয়ে এ মিলের ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। তাই এই জুটমিলকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হলে রাজশাহী জুটমিলটি হতে পারে বাংলাদেশের একমাত্র ব্যতিক্রমি জুটমিল। তারা বলেন, আজ দ্বিতীয় ইউনিট চালুর জন্য প্রয়োজন বিজেএমসির পুরাপুরি সহযোগিতা। বিজেএমসি যতই দ্রুত টাকা ছাড় দিবে তত দ্রুতই দ্বিতীয় ইউনিট চালু হবে।

এ ব্যাপারে জুট মিলের পিডি প্রকৌশলী জিয়াউল হক বলেন, রাজশাহী জুট মিলের দ্বিতীয় ইউনিট চালুর প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলেই এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

এমআই/সাকি