গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস নেদারল্যান্ডের

0
122
সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর

সোনাদিয়ার গSonadia_sea portভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ড বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। রোববার চট্টগ্রাম চেম্বার হাউজে আয়োজিত ‘গভীর সমুদ্রবন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দর কার্যক্রম’ শীর্ষক এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন বাংলাদেশে নিযু্ক্ত নেদারল্যান্ড রাষ্ট্রদূত গারবেন ডি জং।

দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি ও নেদারল্যান্ড দূতাবাস যৌথভাবে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় অংশ নেয় নেদারল্যান্ডের রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ক প্রথম সচিব হেনরিক ভান, অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক বিষয়ক উপদেষ্টা মনোজ্জামান খানম, সিনিয়র বন্দর পরিকল্পনাবিদ জন উইলিয়াম কেম্যান, চেম্বারের সভাপতি মাহবুব আলম, সিনিয়র সহ সভাপতি সাঈদ জামাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত গারবেন ডি জং বলেন, প্রকৃতির উপহার সোনাদিয়া দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে । এখানে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরী করা হলে বড় ধরনের জাহাজও সেখানে ভিড়তে পারবে। নেদারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই নৌ পরিবহন ও বন্দর ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ সরকার চাইলে প্রকল্পে কারিগরি সুবিধা দেবে নেদারল্যান্ড ।

এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ভারত, চীন ও মিয়ানমার সহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে পণ্য ওঠা-নামা সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ বিপুল অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাবে বলে মনে করেন এ রাষ্ট্রদূত।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পটি নিয়ে মন্ত্রিসভায় খসরা অনুমোদন করা হলেও বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বন্দরটি সোনাদিয়া দ্বীপে নির্মানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সোনাদিয়ার সাথে জল ও স্থল পথে যোগাযোগ, ইন্টারনেট সংযোগসহ সার্বিক বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, সোনাদিয়া  সমুদ্রবন্দর দিয়ে চীন যদি ইউরোপের সাথে বাণিজ্য করে তা হলে চীনের ৪ হাজার কিলোমিটার সমুদ্র পথ সাশ্রয় হবে। একই বিষয় ঘটবে ভারত ও মিয়ানমারের ক্ষেত্রেও। সোনাদিয়া দ্বীপে গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়ন হলে ভারত,চীন ও মিয়ানমানসহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে পণ্য ওঠা-নামার সহযোগিতা দিয়ে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হবে তা মোট জিডিপিকে দুই শতাংশ বৃদ্ধি করবে বলে আশা প্রকাশ করে তারা।

তারা বলেন, এছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে ২০২০ সালে মধ্যে বাংলাদেশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বছরে  ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন টন ছাড়িয়ে যাবে । যা চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতার দ্বিগুন। তাই বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশের জন্য হলেও গভীর সমুদ্র বন্দর দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়ার মত দেন বক্তরা।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে প্রকল্পটি শুরুর দিকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও বর্তমান ব্যয় ধরা হয় ৫৫ হাজার কোটি টাকা। ১৪ বছরে গভীর সমুদ্র বন্দর নিয়ে বিভিন্ন সময় পরিকল্পনা কমিটি করা হয়। বিভিন্ন দাতা সংস্থা অর্থ সহায়তার আশ্বাসও পাওয়া যায়। তবে এ কোনো অগ্রগতি হয়নি।

প্রকল্পটিতে বাস্তবায়িত হলে ৪ হাজার টিইউস ক্ষমতাসম্পন্ন কন্টেইনারবাহী জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারবে। কারণ চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের গভীরতা কম থাকায় বড় জাহাজ ভিড়তে পারে না। লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে পণ্য গভীর সমুদ্র থেকে বন্দরে আনতে হয়। ফলে সময় ও পরিবহন খরচ কয়েক গুণ কমে আসবে।